- এম. নাসিমুল হাই
এম. নাসিমুল হাই। একজন সাহিত্যমোদী মানুষ। বই পড়তে খুবই ভালোবাসেন। ছোটদের সময়ের নিয়মিত পাঠক। জন্ম ঢাকা জেলায়। পড়ালেখা শেষ করেছেন ঢাকা কলেজ থেকে। বিভিন্ন কর্পোরেট হাউজে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে ছিলেন। বর্তমানে শীর্ষ একটি কর্পোরেট হাউজে সিনিয়র নির্বাহী পরিচালক এবং কোম্পানি সেক্রেটারির দায়িত্ব পালন করছেন। ছোটদের সময় ঈদসংখ্যায় ঈদ স্মৃতি নিয়ে সাক্ষাৎকার নিয়েছেন সম্পাদক মামুন সারওয়ার।
ছোটদের সময়: আপনার বেড়ে ওঠা কোথায়?
এম. নাসিমুল হাই: আমার জন্ম ও বেড়ে ওঠা ঢাকায়। এখানেই কেটেছে আমার শৈশব-কৈশোর। ঢাকা তখন ছিল তার আদি পর্বে। ঢাকায় তখন এত বড় বড় বিল্ডিং ছিল না। রাস্তাঘাট এত চওড়াও ছিল না। লোকজনও এত বেশি ছিল না। ঢাকা ছিল ফাঁকা ফাঁকা। গাড়ি ঘোড়ার এত চাপ ছিল না। যে-কোনো জায়গায় অল্পসময়েই অনায়াসে যাওয়া যেত। ঢাকা তখন ছিল রিকশা ও ঘোড়ার গাড়ির শহর।
ছোটদের সময়: সে সময় ঈদের আনন্দ কেমন ছিল?
এম. নাসিমুল হাই: অবশ্যই আনন্দমুখর ছিল। সবাই সবার সাথে দেখা করার জন্য উদ্গ্রীব থাকতাম আমরা। ঈদের আগ থেকেই বন্ধুদের মধ্যে প্ল্যান বা পরিকল্পনা হতো কী করে দেখা করব। দূরের আত্মীয়-স্বজনদের সাথেও পরিকল্পনা চলত কি করে মিলিত হব বা আনন্দ ভাগাভাগি করব। স্কুলে আমরা দিন গুনতাম কবে ঈদ আসবে।
ছোটদের সময়: ঈদের পরিবেশ কেমন ছিল?
এম. নাসিমুল হাই: সেই সময় ঢাকায় ঈদ উপলক্ষ্যে অনেক মেলা বসত। আমার এখনও মনে আছে, কমলাপুর সেসময় বেশ বড়সড়ো একটা মেলা হতো। আবার চিড়িয়াখানা তখন ঈদের দিনে অনেক মানুষ সেখানে বেড়াতে যেত। আমরা সেখানে অনেককিছু কেনাকাটা করতাম। বাঁধগুলোতেও মানুষের জমায়েত হতো। বিশেষ করে মোহাম্মদপুরের দিকে বেড়িবাঁধের ওই দিকটায় মানুষ আড্ডা দিত। সদরঘাটের দিকেও অনেক যেতাম। তখন মোহাম্মদপুর থেকে সদরঘাটের ভাড়া ছিল মাত্র ছয় পয়সা।
ছোটদের সময়: সে সময় ঈদের পোশাক কেমন ছিল?
এম. নাসিমুল হাই: আসলে বছরের একটাই পোশাক পেতাম আমরা আর সেটা ঈদেই। ওই একটা পোশাক দিয়েই সারা বছর কাটাতে হতো। সাধারণত পাঞ্জাবি, পাজামা পেতাম সাথে টুপি থাকত। স্যান্ডেল বা জুতা অনেক তোয়াজ করে কালেভদ্রে বাবা-মার কাছ থেকে আদায় করা হতো।
ছোটদের সময়: ঈদ আনন্দের স্মৃতি সম্পর্কে বলুন?
এম. নাসিমুল হাই: ঈদটা তখন ময়মুরুব্বিদের কাছে ছিল অনেকটা এরকম যে ঈদটা আসলে শিশু কিশোরদের জন্য আয়োজন। স্কুল ছুটির আগেই বন্ধুদের মধ্যে আলোচনা করে ঠিক করে রাখতাম আগে কার বাসায় যাব। তারপর সেখান থেকেই দলবেঁধে যেতাম আরেক বন্ধুর বাসায়। আমার স্কুলজীবনের ১ম যে ঈদ সেখানে মোটামুটি ৭/৮জন একত্রিত হয়ে সেখান থেকে পদব্রজে অন্য বন্ধুর বাসা।
ছোটদের সময়: তখনকার ঈদ আর এখনকার ঈদের মধ্যে তফাত কী?
এম. নাসিমুল হাই: আসলে আমরা স্বাধীনতাপূর্ব ও উত্তরকালের ঈদ আয়োজন দেখেছি। স্বাধীনতা উত্তরকালে দেখেছি বেশিরভাগ ক্ষেত্রে পায়েস, পোলাও, সেমাই এসবের আয়োজন খুব বেশি ছিল। বর্তমান সময়ে আমরা দেখি যে এর সাথে কাবাব, মোগলাই খাবার চলে এসেছে। আমরা যারা বাঙালি, তখন কিন্তু আমাদের মধ্যে চটপটির আয়োজন দেখা যেত না। কিন্তু চটপটির আয়োজনটা এখন বেশি হয়ে গেছে। হালিম, চটপটি এগুলো স্বাধীনতা উত্তরকালে ঈদের খাবার তালিকায় যুক্ত হয়েছে যা পূর্বে ছিল না।
ছোটদের সময়: আপনার শৈশবের প্রথম ঈদের জামাত সম্পর্কে বলুন?
এম. নাসিমুল হাই: আমার শৈশবের প্রথম যে জামাত তা কিন্তু আমি স্মরণ করতে পারি। তখন কিন্তু এক মসজিদে একাধিক জামাত হতো না। একটাই জামাত হতো। মসজিদে মাইক ছিল না। যার ফলে সহজেই জানা যেত না জামাতের সময়। আমি যে প্রথম ঈদের জামাতে যাই মোহাম্মদপুরে সাতগম্বুজ মসজিদে এখন সেটাকে পুরাকীর্তি ঘোষণা করা হয়েছে গিয়ে দেখি জামাতে লোকজন দাঁড়িয়ে গেছে। জামাত শুরু হয়েছে সাতটায়, আর আমরা পৌঁছেছি প্রায়ে সাড়ে সাতটার দিকে। তখন ওখানে জামাত না পেয়ে আমরা চলে গেলাম ধানমন্ডি ঈদগাহ মসজিদে।
ছোটদের সময়: শৈশবে ঈদ উপলক্ষ্যে পত্রিকার বিশেষ আয়োজন কেমন ছিল?
এম. নাসিমুল হাই: সে সময় আসলে শিশুকিশোরদের জন্য তেমন কোন পত্রিকা নজরে পড়েনি। আমাদের বাসায় একটা পত্রিকা আসত সেটা হলো বেগম। আমার মার জন্য এই পত্রিকাটি বাবা রাখতেন। সেখানে দেখতাম ঈদ উপলক্ষ্যে বিশেষ আয়োজন থাকত। জিগাতলায় আমার কিশোরকালে একটা সময় কেটেছে। সেখানে দেখতাম সেখানকার কলোনির কিশোররা খুব আয়োজন করে ঈদ উপলক্ষ্যে দেওয়ালিকা প্রকাশ করত। লম্বা লাইন দিয়ে সেই পত্রিকা পড়তাম।