- স. ম. শামসুল আলম
বেশি কথা বলি আমি, এটা নাকি জ্বালানো
মৌচাকে ঢিল ছুড়ে যায় বুঝি পালানো!
তিল থেকে তাল হয় কথাটার মানে কী?
কত তিল বাটলাম, তাল সেটা জানে কি?
বুদ্ধির ঢেঁকি কেন চাল-চিড়ে কোটে না?
এক্সাম দিলে ফল, আগে ফুল ফোটে না।
টাকার কুমির যদি জলে বাস করত
কাঁড়ি কাঁড়ি টাকা দিয়ে মাছগুলো ধরত।
অকাজের গোঁসাইকে চেনা খুবই শক্ত
অনেকেই কেন থাকে তার এত ভক্ত?
যিনি অকূলের কূল তাঁকে খুঁজে পাই না
অগতির গতি যিনি তাঁর কাছে যাই না।
অগাধ জলের মাছ জলে বাস করে কি?
মানুষেরা সেই মাছ ডুব দিয়ে ধরে কি?
উড়ে এসে জুড়ে বসা লোক নাকি ভালো না
সুযোগটা পেলে, সেই করে পরিচালনা।
একবনে দুই বাঘ বাস করা কষ্টই
দেখি সুন্দরবনে কত বাঘ পষ্টই।
মুখে কারো খই ফোটে, সেই খই খাবে কে
বাজখাঁই গলা নিয়ে ক্লাসিক্যাল গাবে কে?
গরু মেরে জুতা দান বাস্তবে দেখিনি
এসবের মানে হলো চর্চাটা একিনী।
গাছে তুলে মই কাড়া স্বভাবের মধ্যে
পড়ে কারো, তাই তারা থেকে যায় গদ্যে।
ছন্দের দোলা নিতে কেউ ছুটে আসে না
গায়ে মেখে কেন কেউ কারো ভালোবাসে না?
ঘুঘু দেখা ফাঁদ দেখা দুটোতেই ফাঁক আছে
ঘোল ঢালা মাথা মানে বুঝি তার টাক আছে।
থাকে চাঁদে কলঙ্ক, লোকে জানে কীভাবে?
চাঁদে হাত ঘষে দেখে জ্বলছে, তা নিভাবে?
চালচুলো নেই যার, সে-ও খায় দুবেলা
চালবাজ লোকে নাকি চেনে ঠিকই লু-বেলা।
আদা-কাঁচকলাতে কি হয় সম্পর্ক?
কলুর বলদ করে কখনও কি তর্ক?
চোখ থাকতেও কানা হয় কেন বুঝি না
ছকড়া নকড়া এত, মূল কথা খুঁজি না।
ডুবে ডুবে জল খাওয়া— তার উপকারিতা
কেউ জানে নাকি? তবে খেতে আমি পারি তা।
জলের কুমির ডেকে আনা হলে মাটিতে
বিপদের সীমা নেই— বসবে সে পাটিতে!
জাঁতাকলে পড়ে গিয়ে দোষ দেবো ভাগ্যে
অবস্থা যা দাঁড়ায়, জি হুজুর আজ্ঞে।
জিলাপির প্যাঁচে পড়ে গেলে নিস্তার নেই
বুকে ঝড় বয়ে গেলে দাঁড়াবার পাড় নেই।
খুশি থাকা ভালো নয় ঝালে ঝোলে অম্বলে
শীত এলে শরীরটা ঢেকে রাখি কম্বলে।
টক্কর খাওয়া লোক পেয়ে গেলে শিক্ষা
চলে টগবগিয়ে সে, লাগে না তো ভিক্ষা।
কখনও টনক নড়ে বড় ভুল করলে
টসটস করে তার চোখে জল ঝরলে।
কী জানাতে চায় কারা টাঁশটাঁশ চেঁচিয়ে
টরটরে ছেলে কথা বলে নাকি পেঁচিয়ে।
টাকার মানুষ যারা থাকে বড় গর্বেই
টানাপোড়েনের লোক সুখ পেলে ধরবেই।
টিপ্পনী কাটে কেউ অন্যের কথাতে
টেরিমেরি করা মানে বাধা স্বাধীনতাতে।
ঠাকুর ঘরে কে বলে দোষারোপ পূর্বেই
সে-লোকের ঠাটবাট দেখে মাথা ঘুরবেই।
ঠান্ডা লড়াই চলে দেখি প্রতিপক্ষে
ঠিকঠাক কথা বলা লোক আছে লক্ষে?
ঠেকায় পড়লে দাদি— এ ঠেলার নাম কী?
বাবাজি বলেই জানি, তবে তার কাম কী?
ঠেলামারা কথা শুনে গা-টা যায় গুলিয়ে
ঠোঁটকাটা লোক রাখে কথা দিয়ে ঝুলিয়ে।
অনেকে রাবণ হতে যেতে চায় লঙ্কা
খুশিতে যে ডগমগ বাজায় কি ডঙ্কা?
ডাক ছেড়ে কাঁদলেও ডানপিটে নয় সে
ডামাডোলে পড়ে গেলে অসহায় হয় সে।
ডালছাড়া বাঁদরের লাফালাফি বন্ধ
সহজেই ডালভাত খেতে পারে অন্ধ।
ডিগবাজি খেয়ে কেউ নীতি ফেলে উলটিয়ে
পরে বোঝে ডুগডুগি বাজানোর ভুলটি-এ।
ডুমুরের ফুল আর চাঁদ অমাবস্যার
এ দুটোই পাওয়া নাকি অনেক তপস্যার।
ড্যাবড্যাব করে যদি থাকে কেউ তাকিয়ে
উদ্দেশ্যটা তার দেখো চোখ বাঁকিয়ে।
ঢনঢন করে ঘোরা— লোকে বাজে বলবে
ঢাকঢাক গুড়গুড় কতদিন চলবে?
ঢিমেতালে তাল দিলে উদ্যম থাকে না
ঢাকঢোল পড়ে গেলে ঢাকা দিলে ঢাকে না।
ঢিল ছুড়ে পাটকেল খেতে কেউ চায় কি?
ঢেঁকি স্বর্গেও গেলে করে হায় হায় কি!
ঢ্যাংঢ্যাং করে নেচে ফায়দা কি জানি না
ঢোক গিলে কথা বলা লোকগুলো ফানি না।
আলসেরা নদীপাড়ে বসে ঢেউ গোনে কি
কানে খাটো লোক যারা সব কথা শোনেকি?
গলা করে বলা কথা বলি কত ঢঙ্গে
ছেলে-বুড়ো হাততালি দিয়ে নাচে বঙ্গে।
বড় ভুল হতে পারে কারো, তড়িঘড়িতে
তড়তড় করে কেউ বেয়ে ওঠে দড়িতে।
মেরে কি বানানো যায় মানুষকে তক্তা
তক্কেতক্কে থাকে কত শত বক্তা।
তন্নতন্ন করে খোঁজার কী দরকার
তলে তলে মিল রেখে তেল দেওয়া চরকার!
তল্পিতল্পা কেউ ফেলে যদি গুটিয়ে
দাঁতন করবে কি সে তালগাছ উঠিয়ে?
তারছেঁড়া লোক নাকি কোনোকিছু মানে না
তীরে এসে তরি ডোবে সেকথাও জানে না।
তীর্থের কাক যদি বসে থাকে আশাতে
তুড়ে দেওয়া যায় নাকি কর্কশ ভাষাতে?
করা হলে তুলোধুনা, সে-লোকের মান আছে?
তেড়িবেড়ি করে যারা পড়ে থাকে কানাচে।
তেলামাথা তেল দিয়ে করা হলে সিক্ত
স্বভাবটা যাবে কই? আরো তেল দিক তো!
চারদিকে তোলপাড় কুরু হওয়া মানে কী
তোতাবুলি আউড়িয়ে কেউ ‘তোলা’ আনে কি?
থতমত খেয়ে কেউ কথা ফেলে গুলিয়ে
থরহরি কম্পটা সবই দেয় ভুলিয়ে।
কার খাবারে কে থাবা মারছে তা বোঝা দায়
থম মেরে বসে থাকে তার ভাষা খোঁজা দায়।
থোঁতা মুখ ভোঁতা করে দেওয়া খুব জরুরি?
মানুষের চেয়ে বেশি ঠ্যাং থাকে গরুরই।
বড় অবলম্বন, দক্ষিণহস্ত
দান-দক্ষিণা যত, করবে সমস্ত।
যদি আলো দপদপ জ্বলে তবে ক্ষতি কী?
দফারফা হয়ে গেলে মানুষের গতি কী?
হেসে দম ফাটে যদি দম নেওয়া কষ্ট
দরকচা আম নয় একেবারে নষ্ট।
দরদাম কুনে ঝরে দরদর ঘাম কি?
দলে ভারী হলে লোক সে-দলের নাম কী?
ভগবান ভূত যদি হয় দশচক্রে
দশভুজা দুর্গার নেই কোনো ঠক রে।
দশমুখে দশকথা শুনে অভ্যস্ত
তারাও মধুর বাণী রেখেছে মুখস্থ।
দাঁতে কুটো কাটে যারা, তারা নাকি ফক্কড়
দাদাগিরি করলেও দিতে আসে টক্কর।
ক্ষুধা বাড়ে পেটে যদি দানাপানি না পড়ে
দম ফেলা দম রাখা ফেলে দেয় ফাঁপরে।
দহরম মহরম কার সাথে কার যে
বুঝা যায় ঠিকঠিক প্রীতি ঔদার্যে।
দিন এনে দিন খাওয়া মজুরের কারবার
দিনে তারা দেখে কারা ভুল করে বারবার!
দু-চোখের বিষ থাকে কেউ কেউ সমাজে
দুধে জল মেশালে যাবে না করা ক্ষমা যে!
দেওয়ালে ঠুকলে মাথা কেন তার ফল নেই
দোনোমনো ভাব যার তার মনে বল নেই।
দেওয়ালেরও কান আছে বলে কেন লোকে তা
দেহ মাটি করে কেউ— কোনোরূপ শোকে তা?
ধড়ে প্রাণ আসা মানে সে বিপন্মুক্ত
ধামাচাপা দেওয়া লোক সন্দেহযুক্ত।
ধামাধরা ধারে কেটে হয় গাঁ-র মাথা সে
ধর্মের কল নাকি নড়ে ওঠে বাতাসে!
ধেই ধেই নেচে যদি বাড়ে ধুকধুকানি
হবে ধুমধাড়াক্কা জমি বেচে দু কানি।
ধেড়ে ইঁদুরের দেখা পায় ধেড়ে খোকা কি
ধোপের গাধারা বুঝি টানে ঘানি? বোকা কি!
ধোপে টিকবে না যেটা, সেটা নিয়ে আলোড়ন
ধোঁয়া তোলা খেলা খেলে বেধে যায় ভালো রণ।
শার্দূল হয় যদি নখদন্তহীন
ক্ষমতা থাকে না তার, হোক বন গহিন।
নখদর্পণে রাখা কষ্টের ব্যাপারই
ননির পুতুল নিয়ে খেলা করা, কে পারি?
নদের চাঁদেরও চাই ভূরি ভূরি টঙ্কা
নকলনবিশ সে কি হয় নবডঙ্কা।
করা হলে নয়ছয়, বেড়ে যাবে দুর্গতি
নষ্টের গোড়া যারা, কীসে পাবে সুর গতি?
নাক-উঁচু স¦ভাবের মানুষেরা মেশে কি
নাক-কানকাটা লোক আছে এই দেশে কি?
অপরাধে নাকে খত কখনও বা দিতে হয়
নাকানি-চোবানি খেয়ে ভালো ফল নিতে হয়।
জিদ ধরে পড়ে থাকে যে নাছোড়বান্দা
তার কাছে সেই ভালো, বাকি সব আন্ধা।
নজরানা দিলে নাকি কাজ খুব দ্রুত হয়
নালা কেটে নোনাজল আনা জনশ্রুত হয়।
ঢাল তলোয়ার ছাড়া নিধিরাম সর্দার
কে দেখেছে কবে তাকে আবডালে, পর্দার!
অকারণে দুটি হাত করে যদি নিশপিশ
বুঝে নিতে হবে ঠিকই কী কারণে ফিসফিস।
পান্তা ফুরায় যদি নুন চেয়ে আনতে
বাকি আর থাকল কী, চাই সেটা জানতে!
অভাব থাকলে বলি, নেই তাই খান না
পেটে ক্ষুধা লাগে যদি চোখে আসে কান্না।
ন্যাড়া বেলতলাতে কি শুধু একবারই যায়
নুন খেয়ে গুণ গেতে টাকা কাঁড়ি কাঁড়ি যায়?
পইপই করে বলি সাবধানে থাক না
পথে পথে খোলা থাকে ম্যানহোলে ঢাকনা।
পড়ে পড়ে মার খাই তবু প্রতিবাদ নেই।
ষোলো আনা জীবনের এক আনা খাদ নেই।
কে কার পথের কাঁটা নিতে হবে খোঁজ করে
ভুঁড়িটা বাড়বে ঠিকই বেশি বেশি ভোজ করে।
কারো কারো পয়সার আছে ফুটফুটানি
কেউবা খোঁটার জোরে খাল করে উঠানই।
সেই হলো বিবেচক, পরিণামদর্শী
মাছ পেতে চার ফেলে, ফেলে রাখে বড়শি।
পরের ধনেও করা যায় নাকি পোদ্দারি
ফাঁকি দিয়ে কতকাল টিকে থাকে জোতদারি।
খাবারটা জমে ওঠে হলে পাঁচমিশালি
কথা দিয়ে কথা রাখা, ব্যাপারটা বিশালই।
পাকা কথা দিয়ে কেউ কথা নিলে ফিরিয়ে
মান যাবে তারই, লাভ নেই নাও ভিড়িয়ে।
স্বভাবটা ভালো নয়, পাকা ধানে মই দেওয়া
ভালো হলো, সকলের হাতে হাতে বই দেওয়া।
চলে যায় কেউ কেউ পাততাড়ি গুটিয়ে
পালের গোদাও পরে মাঝে মাঝে লুটিয়ে।
জানি না কীভাবে লোক পিঁপড়ের গর্তে
ঢুকে গিয়ে থাকে নাকি বেশ বেঁচেবর্তে।
পেটে খিদে মুখে লাজ, ব্যথা প্রতি অঙ্গে
কীভাবে পুকুর চুরি হয় তবে বঙ্গে?
ফন্দিফিকিরে কেউ করে ষড়যন্ত্র
ফাঁদে পা কে দেয়, যদি জানা থাকে মন্ত্র!
ফাঁপা কলসির নাকি বেশি থাকে শব্দ
ফিসফিস কথা বলে করা যায় জব্দ।
ভাগ্যের গুণে যদি মুখে ফুলচন্দন
পড়ে কারো, ধরে নেব গাঢ় হলো বন্ধন।
ঘটনার ফেরফার ঘোরপ্যাঁচ লাগানো
মানুষেরা অন্ধ কী, যায় নাকি জাগানো?
ফ্যাচফ্যাচ করে যারা, তারা বড় মূর্খ
যার ঘরে বেড়া নেই, সে লাগায় হুড়কো!
বকধার্মিক যারা, তাদের কী ধর্ম?
সবচেয়ে বড় হলো, মানবতা-কর্ম।
অপরাধ করলে, সে হবে ঠিকই দণ্ডিত
বচনবাগীশ যারা, তারা বড় পণ্ডিতও।
বড় মানুষের মানে কত তার ঠিক নেই
অভিধান খুলে নিলে, ভাবনার দিক নেই।
বড়মুখ ছোট হয় কথা যদি না-রাখে
বসে খাওয়া ভালো নয়, কাজে তাই পা রাখে।
বাঁকাচোখে তাকানোর লোকগুলো ভালো না
বাক্পটু যে-ছেলের চোখে আলো, জ্বালো না!
এক ঘাটে জল খেলে বাঘ আর গরুতে
শান্তিতে বাস করা খুব সোজা মরুতে।
বাঘে ছুঁলে ঘা খাবেই গুনে গুনে আঠারো
এইমতো ছেঁচা জানা আছে শিল-পাটারও।
বাজখাঁই গলা যার খায় সে কি মিষ্টি?
বাজার গরম করে ডেকে আনে বিষ্টি!
খেলে বাজিমাত করা খুব সাধনার কাজ
বাজেলোক কাজে এলে হবে নাকি আর কাজ?
আজকাল অনেকেই বাড়াভাতে ছাই দেয়
বাড়াবাড়ি করে কেউ হ্যালো বলে, হাই দেয়।
সবকিছু বাদসাদ দিলে কিছু থাকে কি
বিছার কামড় খেলে বাবা বলে ডাকে কি?
মুক্তার হার দিয়ে বানরের গলাতে
সকলেই চায় নাকি মাতবরি ফলাতে।
কারো কারো বিষদাঁত ভেঙে দিতে চায় কেউ
বিষয়-আশয় নিয়ে দ্বন্দ্বেও যায় কেউ।
বিসমিল্লায় যদি থেকে যায় গলদই
চতুর হলেও তাকে লোকে বলে বলদই।
ছেলে পাশ দিলে কারো বুক দশহাত হয়
বেতো ঘোড়া দেখে কেউ কখনও কি কাত হয়?
কারো কারো বেশভূষা দেখে বড় চিন্তিত
বেলা যায় তবু কেন হয়ে যায় দিন তিত।
বলে কোন নবাবের ব্যাটা আলীবর্দী
দেখেছি কখন লাগে ব্যাঙেদের সর্দি!
ভক্তের জন্যই আছে ভগবান তো
ভবঘুরে লোককেও করা যায় শান্ত।
একবার ভরাডুবি হলে নিস্তার নেই
ভাগাড়ে পড়লে গরু শকুনের ছাড় নেই।
ভাঙাবুকে আশা দিতে থাকে তার পাশে কে
ভাঙা ঘর ছেয়ে দিতে শণ নিয়ে আসে কে?
কাকের অভাব নেই কিছু ভাত ছড়ালে
এই কথা কাকে বলি, কাক কেন জড়ালে?
ভাতে মারা বিদ্যেটা শেখাটা উচিত নয়
মানুষের ভালো করা জানাটাই জিত নয়?
সব কাজে ভুলচুক থাকবেই কিছু তো
তাই বলে ঠিক নয় মাথা করা নিচু তো।
কেউ কেউ ভুল বকে, কারো কথা ক্রুদ্ধ
কেউ হয় ভুসিমাল, কেউ অবরুদ্ধ।
কার কথা কেবা শোনে, কেউ হয় ভুঁইফোঁড়
কাঁথাটা বানাতে হলে দিতে হবে সুঁই, ফোঁড়।
ভূতের বাপের যদি করা হয় শ্রাদ্ধ
থাকল কি তবে আর, ভূত কুতে বাধ্য।
কেউ কেউ বিনাদোষে হয়েছে ভূলুণ্ঠিত
কেউবা ভেড়ুয়া থাকে, কেউ থাকে কুণ্ঠিত।
‘ভেনি-ভিডি-ভিসি’ বলে করলে আনন্দ
তাতে জয় হবে নাকি, যদি হও মন্দ।
ভেরেন্ডা ভাজে বসে, অকাজের কাজি সে
ভালো হয়, কাজে যদি লেগে যায় আজই সে।
ভোগান্তি পোহায় যে, কেউ ধার ধারে না
জানি ঠিকই ভ্যাদা মাছ কেন ফাল পাড়ে না।
গাছে তুলে মই কাড়া, প্রবাদ কি ভোলা যায়
পাকা ধানে দিলে মই কোনো কথা তোলা যায়?
মানুষের মণিকোঠা থাকে আরো উচ্চে
দাঁড়কাক নাচে নাকি ময়ূরের পুচ্ছে?
সব ভালো, ভালো তবে মন্দের ভালো সেই
যে করে পরের ভালো, জগতের আলো সেই।
মনে আনা, মনে করা, মনে জাগা মানে কী?
মনে দাগ কাটে কেন? সেটা কেউ জানে কি?
মনে মনে কত করি উচ্চাশা, কল্পনা
থাকে না মনের জোর, এটা কোনো গল্প না।
মেটাতে মনের ঝাল করা হলে গালাগালও
মোটে ভালো কাজ নয়, লোকে বলে, ঘা লাগালো।
ফাঁকা ময়দান মানে সেই মাঠ খালি নয়
কাউকে মাকাল বলা কড়া কোনো গালি নয়।
কত পাখি মাছ খায়, দোষী মাছরাঙা কি?
মাছিমারা কেরানির দুটি হাত ভাঙা কি?
মাছের তেলেও মাছ ভেজে কেউ খায় রে
মাটি খাওয়া কাজ করে সারেং বাজায় রে।
মাটির মানুষ মানে মাটি দিয়ে তৈরি না
নিরীহ শান্ত লোক, কারো সাথে বৈরী না।
মাঠে মারা যাওয়া মানে মূল কাজে নিষ্ফল
জঙ্গলে কোনো কোনো গাছে ধরে বিষফল।
মাথা কাটা যায় কারো মাথা মোটা কথাতে
মাথা কিনে নিলে তার ক্ষতি স্বাধীনতাতে।
তবে জানি মাথা কুটে দু আনাও লাভ নেই
মাথা খাওয়া মানুষের সাথে কোনো ভাব নেই।
মাথা খারাপের কেউ, কারো মাথা গরমই
কেউ মাথা গলালেও হয় না তা নরমই।
মাথা গুলিয়েও মাথা ঘামানোর চেষ্টা
কেউ যদি করে তবে বেড়ে যাবে তেষ্টা।
মাথা ঘুরে পড়ে গেলে মাথাচাড়া দেবে কে
ঠিক না থাকলে মাথা, এত দায় নেবে কে?
মাথা তুলে দাঁড়াতেই বলি মাথা চুলকিয়ে
হয়ে যাব গাঁ-র মাথা, হবে বড় ভুল কি এ?
করব না মাথা নত, কেন মাথা বিকাব
যত থাক মাথাব্যথা, ভালোবাসা শিখাবো।
মাথায় গোবর থাক, মাথাপিছু আয় কত
দেখব আগেই সেটা, মাথা থেকে যায় কত?
কাকে কী যে বলি তার নেই মাথামুণ্ডু
মাথা মুড়ে ঘোল ঢালে গোবিন্দ কুণ্ডু।
যে কথা বলতে চাই তা মাথায় আসে না
রেখেছি মাথায় করে, তবু ভালোবাসে না।
এভাবে মাথায় চড়ে যদি আরও টোকা দেয়
মাথা নিয়ে ভাবনাতে পাগলেও ধোঁকা দেয়।
আশীর্বাদের হাত পড়ে যদি মাথাতে
মাথার ওপরে কেউ আছে, লেখা খাতাতে।
কখনও কখনও যায় মাথার ঘি কুকিয়ে
মাথার মণিকে নাকি রাখা যায় লুকিয়ে?
মানে মানে সরে পড়া ভালো, বলে জ্ঞানীরা
বেঁচে থাকে মানে মানে ঠিকই ঋষি ধ্যানীরা।
মানুষের মাপকাঠি নির্ণয় করা যায়!
সবাই সমান নাকি বাটি চেলে ধরা যায়।
চালাকের সাথে যারা করে কোনো চালাকি
সেটাই মামদোবাজি, ধরা হলে জ্বালা কী!
মামাবাড়ি আবদারে সব পাওয়া যাবে কি
মারাকাটা করলে, সে সুশাসন পাবে কি?
মিটমিটে আলো ঘরে, তাতে কোনো খেদ নেই
মিটমিটে শয়তান এলে বুঝি জেদ নেই!
কারো কারো মুখ চলে, শুনে তা বিতৃষ্ণ
মুখ চাওয়াচাওয়ি করে ভালো দুই কৃষ্ণ।
কারো মুখ ছোট হয়, কারো মুখ ছোটে খুব
মুখ টিপে হাসি দিলে ফুল নাকি ফোটে খুব।
মুখ থাকা মুখ রাখা— দুটোই তো দরকার
কেউ কেউ মুখ নাড়ে, তেল দিয়ে চরকার।
আদুরে গালিটা যদি মুখপোড়া হয়ে যায়
মুখ ফুটে কথা বলা— আনন্দ বয়ে যায়।
মুখ বুজে থাকা লোকও সমাজে সচল না
করা হলে মুখ ভার, তার চোখে জল না।
মুখ লাল করে কেউ ক্রোধে কিবা লজ্জায়
মুখ লুকানোর লোক দুর্বল মজ্জায়।
মুখে আসা কত কথা বলি মুখ সামলিয়ে
মুখে খই ফোটা লোক পড়ে কি না হামলিয়ে!
মুখে চুনকালি মেখে যদি অপদস্থ
করা হয়, মুখে জল দিতে অভ্যস্ত।
তালা মারা যায় মুখে, কীভাবে তা বুঝি না
মুখে মুখে কথা বলা— সে ভাষাও খুঁজি না।
দেখি কারো মুখে মধু থাকে বিষ অন্তরে
সেরকম মানুষের পিষবে কি যন্তরে?
মেঘ না চাইতে যদি জল পড়ে গড়িয়ে
মেঘভাঙা রোদ্দুরও ওঠে চড়চড়িয়ে।
মেঘে মেঘে বেলা হয়, কী করে তা জানি না
মোটকথা সারকথা একথা কি মানি না?
মোটামুটি হিসাবের নেই কোনো বাহানা
দর নিয়ে মোড়ামুড়ি, বলবে কি, আহা! না।
মোমের পুতুল যদি ম্যাদা মেরে খাটে শোয়
মোটাসোটা লোকগুলো তখন কি মাঠে শোয়?
যক্ষের ধন নিয়ে পালাবার পথ কই
বারো জোড়া ঘোড়া লাগে, অত বড় রথ কই?
যতনে রতন মেলে যথারীতি কাজ হলে
যাকে তাকে ঘরে এনে ঘরে তোলা? বাজ হলে?
যায় যায় অবস্থা তবু রাখি আলগিয়ে
অন্যের পায়ে লাগে কখনও কি ফাল গিয়ে?
জঘন্য কাজ করা কার যোগসাজশে
যোগাযোগ রক্ষায় ভালো করে কাজও সে।
জোড়াতাড়া দিয়ে টানা সংসারে ঘানিটা
যো হুকুম জাহাঁপনা, পায়ে ঢালি পানিটা
রকম-সকম দেখে আরো বেশি ভাব আসে
রংঢং যত করি লোকে বলে হাবা সে।
কারো কারো মনেপ্রাণে রক্তের টান আছে
রতনে রতন চেনে— কথাতে কি ভান আছে?
রত্নগর্ভা মাকে বলি সেরা, শ্রেষ্ঠ
রসেবশে রাখে নাকি ভৃত্য সে, কেষ্ট।
রাখঢাক করে কিছু রাখা যায় গোপনে?
রাঘববোয়াল যারা ছিঁড়ে খায় রোপণে?
রসাতলে যাওয়া মানে তারা উচ্ছন্ন
রামগরুড়ের ছানা খায় ঠিকই অন্ন।
ভক্তিতে দুই ভাই হলে, রাম-লক্ষ্মণ
রুজিরোজগার নেই, তবু করে ভক্ষণ।
রুটিরুজি মানুষের প্রয়োজন নিত্য
না থাকলে রোগব্যাধি, ভালো থাকে চিত্ত।
রোজ কিয়ামত এসে দাঁড়ায় কি দরজায়
বৈশাখ মাসে নাকি শুধু মেঘ গরজায়?
রোদে পুড়ে কাজ করা লোক থাকে বস্তিতে
এসি রুমে থেকে কেউ বলে, নেই স্বস্তিতে।
কখনও কি ফুরায় না লক্ষ্মীর ভান্ডার?
চোর যদি ধরা পড়ে, ভয় থাকে ডান্ডার।
লাখ কথার এত কথা বলে কেউ ভাব নেয়
লজ্জার মাথা খেয়ে ব্যবসায়ে লাভ নেয়।
লাটসাহেবের মতো হাম্পাই ডাম্পাই
করে যারা, নিচে থাকে আর আমি দাম পাই।
লাঠালাঠি ভালো নয়, বুঝি বটে সকলে
লালবাতি জ্বলে, যদি ব্যবসাটা নকলে।
লেখালেখি খুব ভালো যে-লেখার হাত থাকে
লেগে থাকা প্রয়োজন, পরে বাজিমাত থাকে।
লেজকাটা শেয়ালের আছে নাকি লজ্জা
লেজ তুলে দেখা যায় পাতে কই শয্যা?
উলট-পালট কাজ হয় লেজে গোবরে
লেবু কচলিয়ে তিতে করে যায় কবরে।
লোক নাকি ভেঙে পড়ে সভা ডাকা ময়দানে
লোটা-কম্বল যত, সবই শেষ হয় দানে।
শকুনিমামার কাছে নিলে পরামর্শ
গাড্ডায় পড়ে যাবে, থাকবে না হর্ষ।
শক্তের ভক্ত যে নরমের যম সে
এরকম লোক নাকি আজকাল কমছে।
কী করে যে দেয় লোকে শত্রুর মুখে ছাই
গলা নলি কোনদিক দিয়ে যায় ঢুকে ছাই!
শর্ট্কাট যেতে কেউ পড়ে খানাখন্দে
শাঁখের করাত চলে কপালটা মন্দে।
ভালোবাসা গাঢ় মানে শিকড়ের টান থাকে
শাক দিয়ে মাছ ঢাকা, চেষ্টাতে মান থাকে?
কারো কারো শিকে ছেঁড়ে বড় সৌভাগ্যে
শিরদাঁড়া খাড়া রেখে বলে সব যাগ্গে।
গুরুর আদেশ কেউ করে শিরোধার্য
কুয়ে কুয়ে লেজ নাড়া লোকে চান কার্য।
ভেবে দেখা দরকার শ্যাম রাখা কুল রাখা
তার চেয়ে ভালো ফুলদানি ভরে ফুল রাখা।
ভালো কাজে হতে পারে ষোলোকলাপূর্ণ
সবার দম্ভ হোক একেবারে চূর্ণ।
গলা করে বলা কথা বলি কত রঙ্গে
কথা শুনে গাধা-গরু হাসে একসঙ্গে।
সবুরে কি মেওয়া ফলে? ধরে থাকি ধৈর্য
মিঠে কড়া ফল কই? সেটা ঐশ্বর্য?
ভূত থাকে যদি কোনো সরষের মধ্যে
ছন্দ হারাবে ঠিকই ভালো কোনো পদ্যে।
সাতে পাঁচে নেই তবু কথা সাত-সতেরো
সাদামাটা চলি, কেন মিল নেই মতেরও?
সাহসীর দ্বিধা থাকে, সাপুড়ের সাপে ভয়
সাপের লেজে পা দেওয়া, তবু কার চাপে ভয়?
না জেনে জানার ভান, সেই সবজান্তা
সবেধন নীলমণি খায় নাকি পান্তা?
সময়ের একফোঁড়, অসময়ে দশ লাগে
বেঁচে থাকা মানে নাকি আরো খ্যাতি-যশ লাগে!
এক খুনে ফাঁসি হলে সাতখুন মাপ হয়?
বলবে, কথার কথা— কথাতেও চাপ হয়।
সাত চড়ে মশা মেরে হইচই ফেলে দেয়
সেরকম লোক পেলে, অকাজেই ঠেলে দেয়।
সাবধানে মার নেই, তবু কত ক্ষতি হয়
পায়ে ঠেলে দিলে সুখ তার কেনো গতি হয়?
হাতে পেলে স্বর্গটা ছেড়ে দেওয়া ঠিক না
স্বর্গের সিঁড়ি থাক যেনতেন, চিকনা।
হওয়া ভাতে কাঠি দিলে নাম হবে তার কী?
হতভাগা হক কথা বলে পায় পার কি?
হন্তদন্ত হয়ে ছোটে যারা হন্যে
তাদের ব্যথা কি বোঝে পড়শিরা, অন্যে?
দুই বল পেটাতেই হয়ে গেলে হয়রান
ছক্কা, পাঞ্জা, চার নিতে পারে কয় রান?
হলাহলি-গলাগলি হরিহর আত্মারই
বেশিদিন টেকে কি না, গোটায় কি পাততাড়ি?
হাঁটুজলে ডুবে মরা, অবস্থা কেরোসিন
নাটুয়া নাটুকেপনা হাঁড়িমুখে তের সীন।
একটুতে কেউ কেউ হাইকোর্ট দেখায়ও
কেউ হাওয়া হয় নাকি? দেখি কত লেখায়ও।
হাটে হাঁড়ি ভাঙা মানে সব কথা ফাঁস করা
হাড়পাকা ছেলে নিয়ে যায় নাকি বাস করা?
হাড়ে হাড়ে টের পাই কত হাড়-হাভাতে
আছে দেশে হাড়গিলে, দেখি হাড় চাবাতে।
হাতকড়া পরা লোক হাত করা যাবে কি?
হাতাহাতি বেধে গেলে তাতে ফল পাবে কি!
হাত কচলায় যারা, সুবিধাটা নিতে চায়
সকলেই হাতখোলা লোক পৃথিবীতে চায়।
পাহাড়-সাগর নাকি কারো হাতছানি দেয়
কারো হাত নাড়া দেখে মেঘ নাকি পানি দেয়।
অসহায় লোক বলে, তার হাত-পা বাঁধা
কে বেঁধেছে কী দিয়ে যে,
দেখি ফাঁকা, না-বাঁধা।
হাত-পা গজায় নাকি সামান্য ঘটনায়
এমন ঘটেছে শুনি মুখে বলা রটনায়।
হাতে হাত মেলানোর মানে একমত হওয়া
হাত বাড়ালেই সুখ, সামনে সুপথ হওয়া।
হাতি দিয়ে হাতি ধরা— নেই সমতুল্য
হাতে চাঁদ পাওয়া হলে কত তার মূল্য?
হাতেখড়ি নিয়ে দেখি পড়ে ছেলে লক্ষ্মী
হাতে-পায়ে ধরা কাজে কত বড় ঝক্কি।
অনেক বিপদে পড়ে দেখি হাতে হারিকেনও
হাতের পুতুল নিয়ে এত খেলা পারি কেন?
হালে পানি পাওয়া গেলে মুখে হাসি ধরে না
হাহুতাশ বিষয়টা কারো ধনী করে না।
হিং টিং ছট মানে যার নেই অর্থ
হিজিবিজি আঁকাজোকা, থাকে তাতে শর্ত?
হিতাহিত জ্ঞান ছাড়া হিতে বিপরীত হয়
তুষারপাতের দেশে বড় বেশি শীত হয়।
হীরে জিরে তফাত কী, সোনা আর সিসে যা
হীরের টুকরো ছেলে, বলি, সাথে মিশে যা।
কে পড়ে হুমড়ি খেয়ে, দেখি হইহুল্লোড়ে
হেঁজিপেঁজি লোকদেরই ঠ্যাং বুঝি ফুলল রে!
আমোদ আর আহ্লাদে হেসে কুটিকুটি হয়
গ্রীষ্ম কি পূজা-ঈদে ইশকুল ছুটি হয়।
কত কথা বলি আমি, কথার কি মান আছে?
মুখে তবু কত হাসি, হাসিতেও প্রাণ আছে।
গলা করে বলা কথা বলি প্রতিপাদ্যে
মিয়াভাই ধমকিয়ে বলে, খোকা বাদ দে।