দুধের ছানা বনাম এলিয়েন ঠমাস

  • তারিকুল আমিন

ঠমাস এলিয়েন ভিনগ্রহী প্রাণী। ঠমাস পৃথিবীতে থাকে না। তারা পৃথিবীর বাইরে বাস করে। তাদের আশপাশে অসংখ্য গ্রহ, নক্ষত্র রয়েছে। শুক্র, মঙ্গল, বৃহস্পতি এবং শনি গ্রহের উপগ্রহ। শনি উপগ্রহ ইনসেলাডাস ও টাইটান, গ্লিজে ৫৮১ সি আর গ্লিজে ৫৮১ ডি। এই উপগ্রহের টাইটান গ্রহে বসবাস বরে টাইটান এলিয়েন। তার পুত্রধন ঠমাস টাইটান। টাইটান ছিল রাগী, বদমেজাজি। আর তার ছেলে দ্বিতীয় ঠমাস টাইটান ছিল ভ্রমণপিয়াসি। সে নতুন নতুন জিনিস আবিষ্কার করতে পছন্দ করে। ঘুরতে পছন্দ করে। এক গ্রহ থেকে অন্য গ্রহে ঘুরতে চলে যায়। সেখানে নতুন নতুন জিনিস উপলব্ধি করে। নিজের দেশে এসে তা পর্যবেক্ষণ করে।
একদিন ঠমাস টাইটান চলে আসে মানুষের রাজ্যে। এখানে সবুজ গাছপালা, পশু-পাখি, নদী-নালা, পাহাড়- পর্বত, মানুষ দেখতে পায়। ঠমাস এসব দেখে অবাক। তার মনে প্রশ্ন জাগে?
-এরা কারা? এরা তো আমার মতো নয়? এদের দেখতে কত সুন্দর দেখায়। আমাদের দেশে এরা যায় না কেন? এরা নড়ে কেন? আর এরা নড়ে না কেন (গাছ, পাহাড়, নদী)? আনমনাভাবে বিড়বিড় করতে থাকে ঠমাস। আর এই গভীর বনে ঘুরে ঘুরে দেখতে থাকে।
কাঠুরের ছেলে কালো মানিক যাচ্ছে মামাবাড়ি। সে খুশির আনন্দে গভীর বনে কবিতা পাঠ করতে করতে যাচ্ছে। তার আনন্দ যেন বাঁধ ভেঙে যাচ্ছে। সে যে গভীর বনে চলে এসেছে তার কোনো খেয়াল নেই।
‘আয় ছেলেরা আয় মেয়েরা ফুল তুলিতে যাই…
ফুলের মালা গলায় দিয়ে মামার বাড়ি যাই…
ঝড়ের দিনে মামার দেশে আম কুড়াতে সুখ…
পাকা জামের মধুর রসে রঙিন করি মুখ…’
এই বলে অট্টহাসিতে মেতে ওঠে কালো মানিক। হঠাৎ কিছু একটার শব্দ কানে আসে কালো মানিকের। তখন কবিতা ছেড়ে পিছে না তাকিয়ে আবার হাঁটতে থাকে। এর কিছুক্ষণ পর কালো মানিক আবার শব্দ শুনতে পায়। চারপাশে তাকিয়ে দেখে কেউ নেই। ঝিঁঝি পোকার লাইট, বাদুড়ের পাখা ঝাপটা, আর শুনসান। তবে মানিকেও কম বদমাশ না। সে টেকনিক খাটায়। গাছের মগডালে উঠে বসে। আর বলল,

  • কে আমার পিছু আসে। এখন দেখেই ছাড়ব। এরপর কান ধরে উঠবস করাবো ব্যাটাকে।
    গাছের মগডাল থেকে দেখে প্রায় ১০-১২ জন ডাকাত সদস্য। ডাকাত কাল্লু সর্দার বলল,
    -এই ছোকড়া। লুকিয়েছিস বুঝি। লুকিয়ে পাড় পাবি? দ্রুত নেমে আয় হতচ্ছাড়া। নাম বলছি। তা না হলে তোকে এখানেই মেরে পুঁতে রেখে যাব। কেউ জানতে পারবে না। হা হা হা …! (এই কথা শোনার পর অন্য ডাকাতগুলো প্রচণ্ড হাসিতে মেতে ওঠে।)
    ডাকাত-২ : ওস্তাদ এত কথার কী আছে। ছোকড়ার কাছে অনেক কিছু আছে। নিয়ে দেই চম্পট। হা হা হা হা!
    এরপর কালো মানিককে টেনে সবাই নিচে নামায়। কালো মানিক চিৎকার করে ওঠে। এমন সময় কালো মানিকের পিছে এসে দাঁড়ায় ঠমাস। মানিকের পেছনে ঠমাসকে দেখেই সব ডাকাত যে যার মতো ছুটতে থাকে। মানিক ভেবেছে ওর চিৎকার শুনে ডাকাত ভয় পেয়েছে। এই খুশিতে নাচতে নাচতে বলতে থাকে,
    ‘ডাকাত ব্যাটা পেল ভয়,
    আমার চিৎকারের হলো জয়..!’
    এই বলতে বলতে পিছে ঘুরে দেখে আজব এক প্রাণী। এ দেখে মানিক ভয় পেয়ে যায়। ভয়ে প্যান্টে হিসু করে দেয়। তোতলাতে থাকে কালো মানিক।
    ‘ডাকাত… ব্যাটা… পেল ভয়
    জমের… দুয়ারে… রেখে.. আমায়!’
    মানিক ভয়ে কাঁপতে থাকে। কোনো দিশা না পেয়ে আবার গাছের মগডালে উঠে যায়। তারপর গাছের নিচে থেকে ঠমাস বলল,
    -ইং সিং চিং পং? কালো মানিক বলল,
    -না আমায় মেরো না। আমার মা ছাড়া আমার আর কেউ নেই গো। আমি এখন মামা বাড়ি যাই। ঠমাস বলল,
    -ইং সিং চিং পং? মানিক বলল,
    -আমার মামা বাড়ি অনেক দূর। মা নিজ হাতে ছানা বানিয়েছে। তা নিয়ে যাচ্ছি গো। এই ছানা তুমি খাও তাও আমায় খেয়েও না। তুমি এসব নিয়ে নাও, আর আমায় ছেড়ে দাও।
    কালো মানিক গাছের থেকে ছানাগুলো ছুড়ে দেয়। ঠমাস সেগুলো নিয়ে পুটলিটা খুলে। তারপর তা পরীক্ষণ যন্ত্র দিয়ে দেখে এটা কী? এবং এর গুণ ক্ষমতা। ঠমাস দেখে এই ছানার গুণ ক্ষমতা অনেক। এটা পৃথিবীর গরুর দুধ থেকে তৈরি বিশেষ খাদ্যদ্রব্য। একে সংস্কৃত ভাষায় বলে তক্রপিণ্ডু বা তক্র কুচিকা। এ ছানা প্রথম বানানো শিখিয়েছেন পর্তুগিজরা। ভারতবর্ষে ছানা তৈরি হয় প্রায় ৩০০ বছর পূর্বে।
    দূর থেকে কালো মানিক আজব এ প্রাণীর কীর্তিকলাপ দেখতে থাকে। তখন ঠমাস সেই খাবার খাওয়া শুরু করে। এক ঢোকে পুরো হাঁড়ি সুদ্ধ খেয়ে ফেলে। কালো মানিক এ দেখো বলল,
    -ওরে খোদা! এ দেহি রাক্ষস। পুরো হাঁড়ি গিলে খেয়েছে। এখন আমায় গিলে খাবে গো।
    এই বলে গাছ থেকে নেমে। দৌড় দিতে লাগবে। দেখবে কালো মানিক খুব দ্রুত বেগে ছুটছে তো ছুটছে। পরে ভেবেছে যে অনেক দূরে চলে এসেছে। নিচে তাকিয়ে দেখে কালো মানিক বলের ওপর। সেখানেই আছে। এক স্থানেই ছুটছে আর ঠমাস শুয়ে দেখছে। মানিকের এই কাণ্ডখানা। কালো মানিক এই কাণ্ড দেখে জ্ঞান হারিয়ে ফেলে। কিছুক্ষণ পর উঠে দেখে সেই আজব রাক্ষস ওর পাশে। পরে ঠমাস মানুষের ভাষায় কথার বলার যন্ত্র তৈরি করে ফেলে। সেই যন্ত্র দিয়েই ঠমাস কথা বলল,
    -বন্ধু! আমি এলিয়েন। আমি টাইটাস গ্রহের রাজার ছেলে। আমায় তুমি ভয় পেয়েও না। আমি তোমার কোনো ক্ষতি করব না। তুমি কি আমার বন্ধু হবে?
    -বন্ধু…! ঠমাস বলল,
    -হ্যাঁ! জানো আমার দেশে আমার কোনো বন্ধু নেই। কারণ বাবা আমাকে কারো সাথে মিশতেই দেয় না। আমি লুকিয়ে চলে আসি ঘুরতে। বাবা ঘুমাচ্ছে এখন তাই আমি ঘুরতে ঘুরতে চলে আসলাম তোমাদের গ্রহে। এখন যাই বন্ধু। কাল আবার দেখা হবে। বন্ধু! তুমি আমার নাম ধরে ডাক দিলেই আমি চলে আসব। ঠমাস চলে যায়।
    কালো মানিক দেখে ওর হাতে একটি আংটি। কিন্তু কোথা থেকে এসেছে বলতে পারে না। তখন বলল,
    -ও ঠমাস বন্ধু দিয়েছে মনে হয়।
    প্রায় সন্ধ্যা ঘনিয়ে এসেছে। গভীর অরণ্যে কালো মানিক হাঁটছে মামার বাড়ি যাবে সেই উদ্দেশ্যে। কিন্তু মানিকের প্রচুর ক্ষুধা পেয়েছে। আমার কিছু খেতে হবে। কোথায় পাই খাবার। এমন সময় একটি সুন্দর মাদুরে দেখা যায় বাহারি খাবার। মানিক কোনোকিছু চিন্তা না করে খেয়ে ফেলে সব খাবার। খাওয়া শেষে দেখে আবার জিনিসগুলো উধাও হয়ে যায়। হঠাৎ মনে হলো এই আংটির জাদু নাতো আবার। তখন আংটিকে বলল,
    -বন্ধু আমি হরিনাথপুর যাব। আমাকে নিয়ে চলো। কালো মানিক তো রীতিমতো অবাক। এক সেকেন্ডে চলে আসল মামার বাড়ি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *