- ওমর বিশ্বাস
বাবা আর ছেলে যাচ্ছে বাসদোকান কিনতে। বাড়ির সবার প্রশ্ন সেটা আবার কী? বাসদোকান মানে?
প্রশ্নটা ছিল বাবারও।
গত কয়েকদিন ধরে পিলুর আবদারটা বেশ জোরালো হয়েছে। তাকে একটা বাসদোকান কিনে দিতে হবে। ওটা ওর খুব পছন্দ।
বাবাকে মাঝেমধ্যে তার চার বছরের পিলুকে বাসদোকান নিয়ে যেতে হয়। ওটা একটা ফাস্টফুডের দোকান। গাড়ির মতো দেখতে। তাই বাসদোকান। হলুদের উপর বিভিন্ন রঙের ডিজাইন করা। প্রতিদিন বিকাল বেলা খোলে। গাড়ির দুই পাশের অনেকখানি তুলে দেওয়া হয়। ভিতরেই বানানো হয় সব। মান খারাপ না। একটা নার্সারির ভেতর গাড়িটা রাখা থাকে। চারপাশে ছোটবড় নানা ধরনের ফুল-ফলের গাছ। নার্সারি অবশ্য সারাদিন খোলা থাকে। পিলুর বাবা বলে খোলা আকাশের নিচে এ জায়গায় বসে খেতে ভালো লাগে। তাই সুযোগ পেলেই তার এখানে আসা চাই।
কয়েকদিন ধরে বায়না ধরেছে তার এরকম একটা বাসদোকান লাগবে। তাকে একটা কিনে দিতে হবে। কিন্তু ওর আব্বুর বিষয়টা বুঝতে সময় লেগেছে।
আমারে ওইটা কিনে দিবা?
কোনটা?
ওই যে গাড়িটা।
আবার কখনও বলবে, দিবা না কিনে? দিবা না?
যতই বলা হয় ওটা বিক্রি হয় না, ওরকম পাওয়া যায় না, কে শোনে কার কথা। এরকম করে শেষমেশ বলতে হলো, দেবো। পিলু সেই থেকে অনেক খুশি। সাথে নতুন আবদার, কবে দিবা?
আর এমন একটা ভাব ধরল যেন তার চাওয়া জিনিসটা এখনই পেয়ে গেছে। চোখেমুখে খুশির আলো ছড়িয়ে পড়েছে। খুশিতে একেবারে ডগমগ। ঠিক হলো সামনে বন্ধে ওরা যাবে বাসদোকান কিনতে।
এবার সে অস্থির। কবে যাবে? কবে আসবে শুক্রবার? ইস আজকে গেলে কত ভালো হতো!
ওটা দিয়ে কী হবে?
বলল, তার বলে লাগবে। ঘরে রাখবে।
ওটা তো ঘরে ঢুকবে না। রাখাও যাবে না— একথা শুনে খুবই অবাক হয়। বিস্ময়ের সাথে বলে, কেন!
বোকা ছেলে কোথাকার, ওটা কি ঘরে আনা যায়? ওটা কত বড় না। তাহলে বাইরে থাকবে। আমি চালাব। ওর ভেতরে খাবার বানাবো। সবাইরে দেবো। ফ্রি ফ্রি। বার্গার আর ড্রিংকস থাকবে। কী মজা! যারা কিনতে পারে না তারাও খাবে। তুমি জানো বার্গার কীভাবে বানাতে হয়? আমি জানি। তোমারে শিখায়ে দেবো।
এমনে এমনে বানায় বলে দুই হাত নেড়ে নেড়ে একনাগাড়ে বলতে থাকে যেন সে বাসদোকান এখনই পেয়ে গেছে।