- আসাদুল্লাহ মামুন
আমাদের পাড়ার বিখ্যাত সেই টুলু মামা। হঠাৎ সেদিন দেখি, গলায় স্টেথিস্কোপ লাগিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। আমরা তো অবাক! কারণ টুলু মামা একটা বেকার ছেলে। ডাক্তারিও পড়েননি। তবে কী সে গ্রাম্য ডাক্তারের ট্রেনিং নিয়ে এসেছে? হতে পারে। আমি আর হাবলু, টুলু মামাকে ধরলাম, ঘটনা কি? ঠুলু মামা তখন স্টেথিস্কোপটা খুলে পকেটে চালান দিয়ে বলল, চিন্তা করিস না, আমি এখনও ডাক্তার হয়নি, তবে হাফ ডাক্তার বলতে পারিস। আমরা ক্লাবের সবাই হাফ ডাক্তারের ইতিহাস শুনতে চাইলাম। তিনি বললেন, তোরা তো জানিস আমার বাবার হাই প্রেশার আছে। ডাক্তার তাকে পরামর্শ দিয়েছে, একটা প্রেশার মাপা মেশিন কিনে রাখতে। মেশিন কেনার পর, তিনি আমাকেও প্রেশার মেশিন ব্যবহার শিখিয়ে দিয়েছেন। তোদের প্রেশার এখনই মেপে দিতে পারি। আমরা হাঁপ ছেড়ে বাঁচলাম। টুলু মামা ডাক্তার হলে রোগী মারা ছাড়া কাজ থাকবেন।
হাবলু বলল, তাই বলে কি স্টেথিস্কোপ গলায় ঝুলিয়ে বেড়াবেন? ব্যাপারটা কেমন লাগে না; টুলু মামা বলল, বলতে পারিস, হাজার হলেও একটা যোগ্যতা অর্জন করেছি। সেটা কি একটু ফলাও করব না? আমরা মুখ টিপে হেসে বললাম, যাহোক অন্তত রাস্তায় ওটা পরবেন না। আমাদেরও তো একটা প্রেস্টিজ আছে। মামা, খিটখিটে মেজাজ নিয়ে বললেন, তোদের কি সহ্য হচ্ছে না? তোরা কি পারবি প্রেশার মাপতে? আমিতো ভাবছি কদিন পর একটা দোকান দিব। সেখানে লেখা থাকবে প্রেশার মাপা দশ টাকা। এখন তো মানুষের প্রেশার বেড়ে গেছে। আড্ডার পয়সাটা তো আসবে। আমরা বললাম, অন্তত এই কাজটি করবেন না। তাতে মানুষের কাছে হাস্যকর হতে পারেন। মামা বললেন, ঠিক আছে তোদের কথা বিবেচনা করা যাবে। এখন বল কার প্রেশার মাপতে হবে? আমরা বললাম, আমাদের কোনো পেশার নেই। টেনশন আছে। তিনি বললেন, টেনশন মাপার পদ্ধতিও আছে। ধর তোর প্রেশার মাপলাম, নিচের মাপটা ঠিক আছে, কিন্তু ওপরের কাঁটা বেড়ে গেছে। তার মানে তুই টেনশনে আছিস। ঠিক আছে বুঝলাম কিছু একটা শিখেছেন। হাবলু বলল, টুলু মামা আচ্ছা প্রেশার কেন হয়? ঠান্ডু ভাই বিজ্ঞের মতো টেবিলে টোকা দিয়ে বললেন, মানুষের হার্টে অথবা শরীরে যখন চর্বি জমে যায়, তখন রক্তের প্রেশার বেড়ে যায়। এই প্রেশারটা নিয়ন্ত্রণে না রাখলে, মানুষের ক্ষতি হতে পারে। আচ্ছা মানুষের ছাড়া কি অন্য প্রাণীর প্রেশার হয়? মামা ধমকে বলল, কী বলতে চাস? হাবলু তখন আমতা আমতা করে বলল, এই যে অনেক জীবজন্তুর গায়ে চর্বি আছে, তাদেরও প্রেশার হয়? যেমন শুনেছি, গরুর মাংস খেলে প্রেশার বাড়ে। তাহলে গরুর কেন প্রেশার হয় না? আমার কথা শুনে মনে হলো মামা কোনো পয়েন্ট পেয়ে গেছেন। সত্যি তো কথা ঠিক বলেছিস? গরুর মাংসে যদি প্রেশার বাড়ে, তাহলে তো গরুর প্রেশার থাকতে পারে। হাবলু বলল, তাহলে এক কাজ করা যাক, চলুন মাঠে যে একটা গরু দেখা যাচ্ছে, তার প্রেশার মাপা যাক। মামা কিছুক্ষণ ভেবে বললেন, গরুর প্রেশার মাপা সহজ না। কখন কী হয়ে যেতে পারে। আমরা বললাম, আমরা তো আছি আপনাকে সাহায্য করব।
এই বলে আমরা তিনজন গরুটার কাছে গিয়ে, হাত পা নাড়া চাড়া করতেই শান্ত হয়ে গেল। তখন ঠান্ডু ভাই প্রেশার মেশিনটা, গরুর সামনের পায়ের বগলের কাছে বেঁধে ফেললেন। তারপর স্টেথিস্কোপ লাগিয়ে দিলেন। গরুটা একবার হাম্বা করে, তাকিয়ে দেখল। মামা যখন প্রেশারে মেশিনে বাতাস দিতে শুরু করলেন, তখন গরুটা নড়াচড়া করে উঠল। আমি বললাম মামা, আপনি কি কিছু বুঝতে পারছেন? মামা বললেন, এর নাড়ির শব্দ যে কোথায় থাকে, ঠিক বুঝতে পারছি না! এমন সময় গরুটা ঝাঁকি দিয়ে উঠল। তিড়িং করে লাফিয়ে ওঠে, মামাকে দিলেন একচাটি। চাটি খেয়ে টুলু মামা তিন গজ দূরে গিয়ে পড়লেন। আমি আর হাবলু গেলাম ছিটকে। টুলু মামা চেঁচিয়ে বলল, হ্যাঁরে হাবলু, আমাকে নিয়ে যা। আমরাতো কোনোমতে টুলু মামাকে ধরে রিকশায় তুললাম। নিয়ে গেলাম পাড়ার আব্দুল বারী ডাক্তারের কাছে। তিনি টুলু মামাকে শুইয়ে দিলেন। তার ব্যথার স্থান দেখলেন, ওষুধ দিলেন। কিন্তু তার মধ্যে পেরেশানি গেল না। তখন বারী ডাক্তার টুলু মামার প্রেশার মেপে বললেন, টুলুর তো এখন ভেরি ভেরি হাই প্রেশার।