মিষ্টি কেন গোল?

  • আহমেদ রিয়াজ

মিষ্টির দোকানের সামনে দিয়ে প্রায়ই হেঁটে আসতে হয় অবনিলকে। আর অবনিলও স্বচ্ছ কাচের ভেতর দিয়ে তাকিয়ে থাকে। তাকে সাজিয়ে রাখা সারি সারি মিষ্টি। কোনো কোনো দিন আবদার করে, ‘মিষ্টি কিনে দাও। মিষ্টি খাবো।’
কখনও মা ওকে নিয়ে দোকানের ভেতরে ঢোকেন। মিষ্টি কেনেন।
একদিন মিষ্টির দোকানের সামনে দিয়ে যাচ্ছিল অবনিল। সেদিন সাথে ছিলেন বাবা। অবনিলের যে মিষ্টি প্রিয় বাবা সেটা জানেন। মিষ্টির দোকানের সামনে এসেই হঠাৎ দাঁড়িয়ে পড়ল অবনিল। কাচের ভেতর দিয়ে তাকালো তাকের দিকে। সাজিয়ে রাখা মিষ্টিগুলো দেখছিল মন দিয়ে। বাবা জানতে চাইলেন, ‘মিষ্টি খাবে?’
অবনিল মাথাটাকে ডানে বামে ঝাঁকিয়ে জানান দিলো, ‘না।’
বাবা আবার জানতে চাইলেন। ‘তবে এখানে দাঁড়িয়ে আছ যে?’
‘মিষ্টি দেখছি।’
‘মিষ্টি কি দেখার জিনিস? মিষ্টি খাওয়ার জিনিস। কিনবে আর গপাগপ খাবে। কিনব?’
জবাব দিলো না অবনিল। উলটো জানতে চাইল, ‘আচ্ছা বাবা, বেশিরভাগ মিষ্টি গোল কেন?’
প্রশ্ন শুনে বাবা অবাক! অবাক হয়ে তাকালেন মিষ্টিগুলোর দিকে। তাইতো! বেশির ভাগ মিষ্টিই গোল। গোল, লম্বাটে, চারকোনা, তিনকোনা মিষ্টি দেখছেন আর ভাবছেন, কী জবাব দেওয়া যায়? শেষে অনেক ভেবে বললেন, ‘মনে হয় আমাদের খাওয়ার সুবিধার জন্য। আমাদের মুখও তো গোল। গোল মুখ দিয়ে গোল মিষ্টি ঢুকে যাবে।’
অবনিল বলল, ‘আমাদের মুখ গোল কে বলল? আমাদের মুখ তো লম্বা।’
সত্যিই আমাদের মুখ লম্বা। মোটা একটা রেখার মতো। বাবা ভাবতে লাগলেন এবার কী জবাব দেবেন। অনেক ভেবে বললেন, ‘মানে যখন আমরা হাঁ করি, তখন আমাদের মুখটা গোল হয়ে যায়। বিশেষ করে মিষ্টি খাওয়ার আগে। হাঁ করার সময় আমাদের সবার মুখই গোল হয়ে যায়। তাই মিষ্টিও গোল। গোল মুখের জন্য গোল মিষ্টি!’
মনে হলো অবনিল মেনে নিয়েছে বাবার কথাটা। বাবা খুব খুশি। খুশিতে অবনিলের চুলে আঙুল দিয়ে বিলি কাটতে লাগলেন। বললেন, ‘এখন তোমার মুখটা কি গোল মিষ্টির জন্য হাঁ করতে চায়?’
অবনিল জবাব না দিয়ে বিশাল এক হাসি দিলো। সেই হাসিতে অবনিলের লম্বা মুখ আরো লম্বা হয়ে গেল। তারপর আর কি! তারপর লম্বা মুখটা গোল করার জন্য গোল গোল মিষ্টি কিনলেন বাবা!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *