রাদিতার স্বপ্ন

  • রণজিৎ সরকার

রাদিতা শহরের স্কুলে পড়ে। সপ্তম শ্রেণিতে। ওর মামার বাড়ি গ্রামে। রাদিতার পড়ালেখার চাপ, বাবা-মার ব্যস্ততার কারণে মামার বাড়ি যাওয়ার সুযোগ খুব কম হয় তার। হঠাৎ মাকে নিয়ে মামার বাড়িতে গেল রাদিতা। তার একটা মামাতো বোন আছে। তার নাম ত্রয়ী। সে পড়ে পঞ্চম শ্রেণিতে। রাদিতাকে পেয়ে ত্রয়ী মহাখুশি। ওরা বিকেলে গ্রামের মাঠে খেলাধুলা করল। সন্ধ্যায় উঠানে পাটি পেড়ে পড়তে বসল। রাদিতা বুঝতে পারল ত্রয়ী পড়ালেখায় অনেক পিছিয়ে আছে। তাকে সঠিকভাবে দিকনির্দেশনা দিতে হবে। তা না হলে ত্রয়ী পড়ালেখায় আরও পিছিয়ে যাবে। তাই রাদিতা পড়ালেখার বিভিন্ন রকমের কৌশল শিখিয়ে দিতে লাগল ত্রয়ীকে। ত্রয়ীর মা আর রাদিতার মা রান্নাঘরে। তারা রান্না করছেন আর গল্প করছেন। গ্রামের সবাই কাজ শেষ করে আমবাগানে বসে গল্প করে। ত্রয়ীর বাবা সেখানে গেছেন।
রাদিতা আর ত্রয়ীর সামনে সাদা শাড়ি পরা একটা বুড়ি এলেন। তার হাতে কলম আর খাতা। রাদিতা বুড়িকে দেখে ভাবল— এই গ্রামের কেউ। ত্রয়ীকে কলম আর খাতা দিতে এসেছেন হয়তো। তাই সে ভয় পেল না। কিন্তু বুড়িকে দেখে অবাক হলো ত্রয়ী। কারণ সে আগে কখনও এমন বুড়িকে দেখেনি। ত্রয়ী ভূত বলে চিৎকার করে মাকে ডাকবে। এমন সময় বুড়ি বললেন, ভয়ের কিছু নেই। তোমাদের জন্য খাতা আর কলম নিয়ে এসেছি। হাত পাতো।
রাদিতা আর ত্রয়ী কোনোকিছু না বলে হাত পাতল। হাতে কলম আর খাতা নেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পরির মতো উড়তে লাগল ওরা।
কিন্তু কেউ কোনো কথা বলতে পারছে না। উড়ছে আর উড়ছে। কিছুক্ষণ পর এক গুহায় গিয়ে হাজির হলো। সেখানে রাজ চেয়ারে বসে আছেন এক রাজা। বুড়ি ত্রয়ীর হাত ধরে রাজাকে বললেন, ‘জাহাঁপনা, ত্রয়ী ঠিকমতো পড়ালেখা করে না। পড়ালেখায় ফাঁকি দেয়, আপনার কথামতো তাকে ধরে নিয়ে এসেছি, আপনি কী বলবেন, বলুন।’
রাজা বললেন, ‘আমি এখন কিছু বলতে পারব না। ব্যস্ত আছি।’ সেনাপতি বললেন, ‘ওদের বন্দি করে রাখো।’
রাদিতা ভয় না করে সাহসের সাথে বলল, ‘আমাদের তুলে নিয়ে আসা হলো কেন?’
বুড়ি বললেন, ‘রাজা ফ্রি হোক। তারপর বুঝতে পারবে।’
রাদিতা বলল, ‘রাজা মহাশয়কে তো আর এখন দেশ পরিচালনা করতে হয় না। তিনি কী এমন কাজে ব্যস্ত আছেন, জানতে পারি?’
রাদিতার কথা শুনে রাজা বুঝতে পারলেন মেয়েটা বেশ সাহসী। আমি যে কাজে ব্যস্ত আছি। তাকে আমরা সমস্যার কথাটা বলি। কারণ সে এ যুগের মেয়ে। আমার মনে হয় সে আমার সমস্যার সমাধান করে দিতে পারে। রাজা আশা নিয়ে এগিয়ে এসে বললেন, ‘তোমার নাম কী?
‘রাদিতা।’
‘কীসে পড়ে?’
‘সপ্তম শ্রেণিতে।’
‘তুমি কি মোবাইল ফোন ব্যবহার করো?’
‘হ্যাঁ, করি।’
‘মোবাইলে কি গেম খেলো?
‘হ্যাঁ, খেলি।’
রাজা তার মোবাইল ফোনটা রাদিতার হাতে দিয়ে বললেন, ‘আমি এই অ্যাপসে গেম খুঁজে পাচ্ছি না। তুমি একটু খুঁজে বের করে দেবে।’
রাজা সে অ্যাপ দেখিয়েছেন। সে অ্যাপসে গেম খেলে রাদিতা। রাদিতা দেখার সঙ্গে সঙ্গে রাজাকে সব শিখিয়ে দিলো। রাজা মহাখুশি। তিনি ধন্যবাদ দিলেন রাদিতাকে। ত্রয়ীর মাথায় হাত রেখে রাজা বললেন, ‘পড়ালেখায় মনোযোগী হও। ভালো রেজাল্ট করো। বাবা-মার মুখ উজ্জ্বল করো।’
ত্রয়ী বলল, ‘ঠিক আছে। আপনার কথা রাখব।’
রাজা বললেন, ‘আমার কথা না শুনলে কিন্তু আবার তুলে নিয়ে আসব।’
ত্রয়ী ভয়ে ভয়ে বলল, ঠিক আছে। আমি নিয়মিত পড়ালেখা করব।
বুড়ি বললেন, ‘রাজার রাজ্য এখন আর নেই। তাই তিনি এখন দায়িত্ব নিয়েছেন, যারা পড়ালেখায় ফাঁকি দেবে, তাদের তুলে নিয়ে এসে শাস্তি দেবেন। যারা নিয়মিত পড়ালেখা করবে, তাদের পুরস্কার দেবেন।’
রাজা খুশি হয়ে রাদিতাকে অনেকে পুরস্কার দিলেন। রাজার হুকুমমতো বুড়ি রাদিতা ও ত্রয়ীকে সারা পৃথিবী ঘুরানো শেষে বাড়ি পৌঁছে দিলেন বুড়ি। রাদিতার ঘুম ভেঙে গেল। ভয়ে চিৎকার দিলো। মা কাছে এলেন। মাকে মামার বাড়ির স্বপ্নটার কথা খুলে বলল রাদিতা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *