লোটু পাটুর ঈদ

  • মাহমুদ আকবর

খুকির পোষা প্রাণী বেশ পছন্দ। খুকি অনলাইন থেকে তার বাবাকে দিয়ে ছোট্ট একটি বিড়ালছানা অর্ডার করেছে। বিড়ালছানাটি দেখতে খুবই কিউট, খুকি বিড়ালছানাটি পেয়ে বেশ খুশি, আনন্দে আত্মাহারা। সারাদিন খুকি বিড়াল ছানাটি নিয়ে আদর যত্নে ব্যস্ত থাকে। খুকি তার নাম রেখেছে লোটু। খুকি লোটুকে খুব সহজেই পোষ মানিয়ে নিয়েছে। লোটু সারাদিন ঘরে বাহিরে ছুটোছুটি করে মাঝেমধ্যে খুকির বাসার পাশে কাঁঠাল গাছে উঠে দুষ্টুমি করে। লোটু আগে শহরে ছিল। গ্রামে খোলামেলা মাঠ-ঘাট সবুজ শ্যামলে প্রকৃতির রূপ দেখে লোটু মহাখুশি। রাতে সবাই ঘুমাচ্ছে লোটু খচমচ শব্দ শুনতে পেল হঠাৎ লোটু দেখে একটি ছোট্ট ইঁদুরছানা, লোটু চোখ বড় বড় করে তাকাচ্ছে উত্তেজিত হয়ে তাড়ানোর চেষ্টা করছে কিন্তু দুষ্টু ইঁদুর কিছুতেই সরছে নাহ। ইঁদুরছানাটি লোটুকে কিছু একটা বলতেছে, অনেকক্ষণ তার সঙ্গে কথা বলেছে ছোট্ট প্রাণীটির ওপর বড্ড মায়া হলো লোটুর, ইঁদুরছানাটি বিড়ালছানাকে জিজ্ঞেস করল তোমার নাম কী? বিড়ালছানা বলল আমার নাম লোটু। লোটু ইঁদুরছানাটিকে নাম জিজ্ঞেস করল কিন্তু সে নিজের নাম জানে না বলল আমি ইঁদুর, সে নাম বলবেই বা কী করে তাকে তো কেউ পোষে না, তাই কেউ তার নাম দেয়নি, লোটু ইঁদুরছানাটির নাম দিয়েছে পাটু। লোটু আর পাটুর মধ্যে খুব ভালো বন্ধুত্ব হলো। খুকির অনুপস্থিতিতে পাটু এসে লোটুর সঙ্গে গল্প করে দুষ্টুমি করে। খুকির স্কুল রমজানে বন্ধ দিয়েছে স্কুল বন্ধতে খুকির বায়না ঢাকা তার ফুপির বাসায় বেড়াতে যাবে, ঈদের আগে আবার দেশে চলে আসবে। খুকি ব্যাগ গুছিয়ে নিয়েছে লোটুকে তার মায়ের কাছে রেখে গেছে। মাকে বলেছে লোটুর যাতে যত্ন করে লোটু যেন অসুস্থ না হয় ঠিকমতো খাবার দেয়। খুকি পোষা প্রাণী খুব পছন্দ করে তাই এত আদর। পাটু দুষ্টুমি করে খুকির ব্যাগ খোলা পেয়ে ব্যাগের মধ্যে ঢুকে গেল খুকি ব্যাগের চেইন লাগিয়ে দিয়েছে। খুকি জানত না পাটু তার ব্যাগের মধ্যে ঢুকেছে। খুকি তার বাবার সঙ্গে ভোলা থেকে লঞ্চে করে ঢাকায় ফুপির বাসায় যাচ্ছে। লঞ্চের মধ্যে দুষ্টু ইঁদুর তার ছোট দাঁতগুলো দিয়ে খুকির ব্যাগ কেটে বাহিরে বেরিয়ে এলো। লঞ্চ ঘাটে এসেছে, সবাই নেমে গেছে খুকি বাবার সঙ্গে তার ফুপির বাসায় চলে গেছে। পাটুও লঞ্চ থেকে নামল। ঢাকায় অনেক মানুষ পাটু এত্ত মানুষ আগে কখনও দেখেনি। লঞ্চঘাটে কত মানুষ ঘুমিয়ে আছে তাদের মনে হয় ঘরবাড়ি নেই, তাদের জীবন কত কষ্টের পাটু দেখেছে আর ভাবছে। ঢাকার শহরে পাটুর কেউ নেই, অচেনা শহরে পাটু ঘোরাঘুরি করছে। চারদিকে অনেক যানবাহন আর
মানুষের ভিড়ে পাটু বড্ড অসহায়। ঢাকার শহরে কোথায় থাকবে কীভাবে খাবে এই ভেবে পাটু খুব চিন্তিত। সে বোঝতে পারেনি তার ছোট্ট ভুলের জন্য এমন বিপদে পড়বে। সদরঘাটের পার্শ্বে পরিত্যক্ত একটি বাড়ির নিচে পাটু আশ্রয় নিলো। এভাবে বেশ কিছুদিন চলে গেল ঈদের আর একদিন বাকি পাটু লোটুর কথা ভাবছে লোটুর সঙ্গে কত দিন হয়ে গেল দেখা হয় না, কথা বলা হয় না, লোটু কেমন আছে, কী করছে? লোটুকে কথা দিয়েছে তার সঙ্গে ঈদ করবে, ঘোরাঘুরি করবে, খুকি দেশে চলে এসছে। ঈদের দিন, অনেক আয়োজন খুকি লোটুকে খেতে দিয়েছে লোটু খাচ্ছে না পাটুর জন্য মন খারাপ। অনেক দিন হলো পাটু আসে না তার সঙ্গে গল্প করে না ঈদে এক সঙ্গে ঘুরবে মজা করবে বলেছে কিন্তু পাটুর আর দেখা মিলল নাহ। ঈদের দিনে ঈদের আনন্দ চারদিকে কিন্তু পাটুর মনে কোনো আনন্দ নেই, কারণ তার বন্ধু লোটুর সঙ্গে ঈদ করতে পারেনি। তাই মনটা খারাপ। পাটু সিদ্ধান্ত নিলো গ্রামে চলে যাবে কারণ ঢাকা শহর পাটুর পছন্দ নয়, ঢাকা শহরে অনেক মানুষ বসবাস করে কোলাহল ব্যস্তময় শহর থেকে গ্রাম অনেক ভালো নাদীনালা, খাল-বিল, গাছ-পালা অনেক সুন্দর পরিবেশ গ্রামের মানুষগুলো অনেক সহজ-সরল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *