- মানজুর মুহাম্মদ
এই নে তোর লাল টিয়ে ধরার ফাঁদ। অলক স্যারের কথা ইলুর বিশ্বাস হচ্ছে না। সে ফ্যাল ফ্যাল করে অবিশ্বাস্য চোখে অলক স্যারের হাতে থাকা একটি চিকন বাঁশের দিকে তাকিয়ে আছে। নে ধর। অলক স্যারের কথায় সংবিৎ ফিরে পেয়ে ইলু লাল টিয়ে ধরার চিকন বাঁশের ফাঁদটি হাতে নিলো। ইলু লক্ষ্য করল চিকন বাঁশটির মাথা দুভাগ করে কিছুটা ফাঁক করে একটি মাঝারি সাইজের বেতকে গোল রিংয়ের মতো করে বাঁধা। আর ওই রিংয়ের সঙ্গে চিকন সুতোর জাল বাঁধা। জালটা নিচের দিকে এক-দেড় হাতের মতো ঝুলে আছে। খুশিতে ইলুর চোখে পানি চলে এলো। গত কয়েক দিন ধরে সে অলক স্যারের বাড়িতে বেশ কয়েকবার এসেছে। স্যারের সঙ্গে সাক্ষাৎ হয়েছে মাত্র দুবার। স্যার যখনি তাকে দেখেছে তখনই বলেছে, কিরে ইলিয়াস আলী, ঘুরঘুর করছিস কেন? ইলুর আসল নাম ইলিয়াস আলী। অলক স্যার তাকে পুরো নামেই ডাকে। মা বাবা আদর করে ইলু ডাকে। বন্ধুরাও তাকে ইলু বলেই ডাকে। অলক স্যারকে দুবার-ই ইলু আমতা আমতা করে ভয়ে ভয়ে নিচু স্বরে কুধু বলতে পেরেছে— স্যার কাটা পাহাড়ের লাল টিয়ে…। ‘পুরো বাক্য আর বলা হয়ে ওঠেনি। ওই টুকুন কুনার পর দুবার-ই অলক স্যার ধমক দিয়ে ইলুকে বলেছে- যা, বাড়ি যা। গ্রামে মিলিটারি নামছে। তাড়াতাড়ি বাড়ি যা। ইলু দুদিন-ই ধমক খেয়ে বাড়ি ফিরেছে। যুদ্ধের জন্য ইলুদের নয়নতারা প্রাইমারি স্কুল বন্ধ হয়ে গেছে গত সপ্তাহে। স্কুলের বন্ধুরা অনেকেই গ্রাম ছেড়ে অন্যত্র চলে গেছে। স্কুল ঘরে মিলিটারিরা ক্যাম্প করেছে। ইলুদের বাড়ি যাওয়ার পথেই পড়ে নয়নতারা প্রাইমারি স্কুল। ইলু বাড়িতে যাওয়া-আসার সময় স্কুলের ভেতর উঁকি দিয়ে মিলিটারিদের দেখার কয়েকবার চেষ্টাও করেছে। স্কুল মাঠে পাকিস্তানি মিলিটারিদের একটি বড় ট্রাক ছাড়া আর তেমন কিছুই তার চোখে পড়েনি। স্কুলে ঢোকার পথে বন্দুক কাঁধে খাকি পোশাকের দুজন লম্বা লোককে অনড় দাঁড়িয়ে থাকতে দেখেছে কুধু। তাদের কখনও ইলুর একটুও ভয় লাগেনি। যুদ্ধের জন্য স্কুল বন্ধ হয়ে যাওয়ার বিষয়টি ইলুর মনে তেমন কোনো প্রভাব ফেলেনি। পঞ্চম শ্রেণির ইলু মনে করেছে— এর আগেও অজানা কারণে কয়েকবার স্কুল বন্ধ ছিল বেশ কয়েকদিন, স্কুল আগের মতো আবারো কিছুদিন পর খুলে যাবে।
স্কুল বন্ধ হয়ে যাওয়ার দিন পিকলুর হাতে একটি খাঁচায় লাল টিয়ে দেখে ইলু পিকলুকে সাগ্রহে জিজ্ঞাসা করেছিল, পিকলু, লাল টিয়ে কোথায় কীভাবে পেলি? পিকলু ইলুর ক্লাসমেট। সে ইলুকে একটুও পছন্দ করে না। ভালোভাবে কথাও বলে না। ইলুর সঙ্গে কুধু ঝগড়া করে। পিকলুর কাছে লাল টিয়ের কথাটা জানতে চেয়ে ইলু ভেবেছিল বরাবরের মতো পিকলু ঠিক উত্তরটা দেবে না। সেদিন পিকলুকে কেমন যেন দেখাচ্ছিল। টিয়ের খাঁচা হাতে পিকলুকে কেমন যেন চিন্তিত মনে হচ্ছিল। ইলুর কথা কুনে পিকলু উদাসভাবে বলল, কাটা পাহাড়ের লাল টিয়ে। এগুলো ধরা খুব কঠিন। অলক স্যারের বানানো ফাঁদ দিয়ে দুটো ধরেছি। একটি পালিয়েছে। কথাগুলো শেষ করেই পিকলু বিড়বিড় করে বলল, সবাইকে মেরে ফেলবে। ইলু জানতে চাইল, কে কাকে মারবে? পিকলু বলল, কাল রাতে আমার বড়দা এসেছে কোলকাতা থেকে আমাদের নিয়ে যেতে। দাদা বলেছে পাকিস্তানি মিলিটারিরা গ্রামে আসছে। তারা আমাদের সবাইকে মেরে ফেলবে। পিকলু কথাগুলো বলার সময় ইলু এক দৃষ্টিতে খাঁচার অপূর্ব লাল টিয়েটির দিকে তাকিয়ে রইল। পিকলুর কথাগুলো ইলুর কানে ঠিকমতো পৌঁছল না। ইলু বলল, পিকলু, টিয়ে ধরার ফাঁদটা আমাকে একটু দিবি। পিকলু সে উত্তর না দিয়ে বলল, কাল গ্রাম ছেড়ে কলকাতা চলে যাচ্ছি। এ বলে পিকলু হন হন করে চলে গেল।
ইলুর লাল টিয়ে খুব পছন্দ। প্রায়শই বাড়ির উঠোনে দক্ষিণের জামগাছটিতে লাল টিয়েরা দল বেঁধে বেঁধে আসে। ইলু অনেকদিন তার বাবার কাছে লাল টিয়ে ধরার উপায় জানতে চেয়েছে। বাবা বারবার-ই বলেছে ইলু এ পাখি ধরা খুব-ই কঠিন। লাল টিয়েরা কোথায় থাকে ইলু সেটা মায়ের কাছে জানতে চেয়েছিল। মা বলেছিল, গাঁয়ের উত্তরের কাটা পাহাড়ে। মায়ের কাছে যেদিন লাল টিয়ের নিবাস জেনেছিল তার পরদিন দুপুরবেলা ইলু ক্লাসের বন্ধু শরৎ, খালেক, জয়নুলকে নিয়ে দলবেঁধে উত্তরের কাটা পাহাড়ে গিয়েছিল। কাটা পাহাড়ের গায়ে অসংখ্য ছোটো ছোটো গর্ত। পুরো পাহাড় জুড়ে লাল টিয়েরা ওড়াউড়ি করছে। একবার ফুড়ুৎ করে গর্তে ঢুকছে, আবার ফড়ুৎ করে বের হচ্ছে। এই লাল টিয়ে কীভাবে ধরা যায় ইলু তা বন্ধুদের কাছে জানতে চাইল। বন্ধুদের সবাই বলল, এ টিয়েগুলো খুব চালাক। এগুলোকে ধরা খুব কঠিন কাজ। শরৎ বলল, পাহাড়ের ওই গর্তগুলোতে সাপও থাকে, টিয়ে ধরতে গিয়ে অনেকে সাপের কামড় খেয়েছে। অনেকে সাপের কামড় খেয়ে মরেও গেছে। এসব কথা ইলুর ইচ্ছাকে এতটুকুন দমন করতে পারেনি। সেদিন থেকে ইলু লাল টিয়ের জন্য মরিয়া হয়ে উঠে। লাল টিয়ে তার চাই-ই চাই। সে থেকে ইলু সবসময় লাল টিয়ে ধরার ফন্দি আঁটত। পিকলুর কাছে অলক স্যারের লাল টিয়ে ধরার ফাঁেদর কথা কুনে ইলু ঠিক করেছিল- যে করেই হোক অলক স্যার থেকে একটি টিয়ে ধরার ফাঁদ সে বানিয়ে নেবে।
অলক স্যারের হাত থেকে চিকন বাঁশের ফাঁদটি নিয়ে ইলু স্যারের পা ছুঁয়ে টুক করে সালাম করল। অলক স্যার ইলুকে বুঝিয়ে দিলো ফাঁদ কীভাবে ব্যবহার করবে। বেতকে গোল করে জালের যে মুখ করা হয়েছে তা গর্তের ওপর চেপে ধরতে হবে। জালের মুখটা গর্তের চেয়ে বড়। পাখি গর্ত থেকে বেরুনোর সঙ্গে সঙ্গে জালের ভেতর তার পা আটকে যাবে। ফাঁদের কথা শেষ করে অলক স্যার ইলুকে বুকে জড়িয়ে ধরে হাউ মাউ করে কেঁদে ফেললেন। কাঁদতে কাঁদতে বলেলন, ওরে ইলিয়াস আলী তোর লাল টিয়ে আর কাটা পাহাড়ে থাকবে না। সব উড়ে চলে যাবে অন্য দেশে। গ্রামে জানোয়ার নেমেছে, জানোয়ার। অলক স্যারের কান্না ইলুকে একটুও স্পর্শ করল না। সে ফাঁদ হাতে পেয়েই আনন্দে আত্মহারা।
পরের দিন খুব ভোরে ভোরে ইলু ফাঁদ হাতে কাটা পাহাড়ে পৌঁছে গেল। মাকে সে রাতেই বলেছে উত্তরের কাটা পাহাড়ে লাল টিয়ে ধরতে যাবার কথা। মা বারবার বারণ করেছে। বলেছে, বাবা গ্রামে মিলিটারি নেমেছে, তুই অত দূরে যাসনে। ইলু মাকে সান্ত্বনা দিয়ে বলেছে, মা দুটো টিয়ে ধরেই তাড়াতাড়ি চলে আসব। বেশি দেরি করব না। রাতে মায়ের কাছে ইলু টিয়ে রাখার জন্য একটি খাঁচা চেয়েছিল। ইলুর মা সখিনা বেগম আদরের ছেলের মন রাখতে ঘরের মাচা হতে পুরোনো নড়বড়ে একটি পাখির খাঁচা নামিয়ে খাঁচার ভাঙা ছোট্ট দরজাটি চিকন তার দিয়ে কোনোরকম ঠিক করে ছেলের হাতে খাঁচা তুলে দিয়ে বলেছিল, দরজাটা নড়বড়ে, পাখি খাঁচায় পুরে তারটা ভালো করে পেঁচিয়ে নিস। নইলে পাখি পালাবে। পাখির নড়বড়ে খাঁচাটি হাতে নিয়ে ইলু খুব খুশি হয়ে মা’কে দ্রুত দুটো চুমু খেয়েছিল।
ধীরে ধীরে সূর্যের আলো ফুটছে। সূর্যের লাল কিরণ কাটা পাহাড়ের সোনালি মাটিতে লুটিয়ে পড়েছে। লাল টিয়েগুলো দারুণ ওড়াউড়ি করছে। ইলু দুরু দুরু বুকে অলক স্যারের কথা মতো প্রথমে একটি গর্তে ফাঁদটি চেপে ধরল। এভাবে অনেকক্ষণ সময় পার হয়ে গেল। গর্ত থেকে টিয়ে বের হলো না। ইলুর দুহাত ব্যথায় টন টন করছে। অগত্যা ফাঁদ নামিয়ে ইলু কিছুক্ষণ বিশ্রাম নিলো। আবার অন্য একটি গর্তে ফাঁদ চেপে ধরল। একটু আগেই ওই গর্তে লাল টিয়ে ঢুকতে দেখেছে সে। ইলু ভাবল এবার নিশ্চয় লাল টিয়ে ধরা পড়বে। এবারও অনেকক্ষণ সময় পার হয়ে গেল। কিন্তু গর্ত থেকে কোনো টিয়ে বের হলো না। এভাবে অনেক বেলা হয়ে গেল। ইলু ক্লান্ত হয়ে পড়ল। মায়ের কথা মনে পড়ল। বিষণ্ন মনে ক্লান্ত ইলু বাড়ির দিকে পা বাড়ালো। বাড়ি ফিরতে ফিরতে সন্ধ্যা হয়ে গেল। রাতে কিছু না খেয়েই ইলু মন খারাপ করে ঘুমিয়ে পড়ল। সে রাতে প্রচুর গুলির শব্দ হলো। গুলির শব্দে ইলুর বারবার ঘুমের ভেতর চমকে উঠল।
পরের দিন ইলু আবারো খুব ভোরে ভোরে কাটা পাহাড়ে চলে গেল। পাহাড়ের কাছাকাছি পৌঁছতেই শুনতে পেল- ঠা-ঠা-ঠা-ঠা গুলি শব্দ। ইলু কিছুটা ভয় পেল। মাথায় তার লাল টিয়ে ধরার নেশা। গুলির আওয়াজের দিকে মন না দিয়ে কাটা পাহাড়ের গর্তে সে ফাঁদ চেপে ধরল। একটু পর আবার গুলির আওয়াজ শোনা গেল ঠা-ঠা-ঠা-ঠা। ইলু দেখল গুলির আওয়াজের সঙ্গে সঙ্গে গর্ত হতে একটি লাল টিয়ে বেরিয়ে উড়াল দিতেই তার ফাঁদের জালে আটকে গেল। ইলু দ্রুত ফাঁদ নামিয়ে টিয়েটা জাল থেকে নিয়ে খাঁচায় পুরে ফেলল। ইলু ঝটপট আর একটি গর্তের গায়ে চিকন বাঁশের ফাঁদ চেপে ধরল। একটু পরে আবারো গুলির শব্দ হলো। এবারো গুলির আওয়াজের সঙ্গে সঙ্গে একটি লাল টিয়েপাখি বেরিয়ে এলো এবং ফাঁদের জালে আটকে গেল। ইলু বুঝল লাল টিয়েগুলো গুলির আওয়াজে ভয় পেয়ে স্বাধীন আকাশে পালাতে চাইছে নিজ ঘর ছেড়ে। ইলু একে একে দশটি লাল টিয়ে ধরল। নড়বড়ে খাঁচায় টিয়েগুলো রাখার পর আর টিয়ে রাখার জায়গা রইল না। ইলু টিয়ে ভরতি খাঁচা নিয়ে মহানন্দে বাড়ি ফেরার পথে স্কুলের কাছাকাছি এসে থমকে দাঁড়ালো। ভেতর থেকে কিছু লোকের কান্নার আওয়াজ শুনতে পেল। ইলুর বুক ধড়ফড় করে উঠল। হঠাৎ দ্রুত বেগে একটি জিপ গাড়ি এসে থামল স্কুল গেটে। জিপ গাড়ির ড্রাইভার ইলুকে ইশারায় কাছে ডাকল। ইলু ভয়ে ভয়ে কিছুটা এগিয়ে গেল। ড্রাইভার বলে উঠল এয় ল্যাড়কা ইয়ে চিড়িয়া কাহাঁছে লায়া? এদার আও। ইয়ে চিড়িয়া খানে মে বহুত মজা আয়েগা। চিড়িয়া কা পিঞ্জর মুঝে দে দো। ইলু কিছুই বুঝল না। ভয়ে ফ্যাল ফ্যাল করে জিপ গাড়ির মোটা মোচওয়ালা ড্রাইভারের ভয়ংকর মুখের দিকে তাকিয়ে রইল। হঠাৎ স্কুলের দপ্তরি কাকার আওয়াজ শুনল সে। দপ্তরি কাকাকে ইলু এতক্ষণ খেয়াল করেনি। দপ্তরি কাকা জিপের পাশেই দাঁড়ানো। দপ্তরি কাকা বলেলন, ইলু তোমার টিয়েপাখিগুলো সাহেব চাচ্ছেন। উনি বলছেন এগুলো খেতে খুব মজা হবে। বাবা সাহেবকে পাখিগুলো দিয়ে দাও। সঙ্গে সঙ্গে ইলুর মাথায় আগুন ধরে গেল। রাগে দাঁতে দাঁত চাপল। খুব দ্রুত চিন্তা করতে লাগল কী করা যায়। মোটা মোচওয়ালা ড্রাইভার ইলুর হাতে ধরা খাঁচার দিকে এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে। ঠোঁটে বিশ্রী হাসি ঝুলে আছে। ইলুর মাথায় হঠাৎ বুদ্ধি খেলে গেল। তার মায়ের কথা মনে পড়ল। মনে পড়ল খাঁচার দরজা নড়বড়ে। তার খুলে গেলেই পাখি পালাবে মুহূর্তে। মোটা মোচওয়ালা ড্রাইভার আবার চিৎকার করে বলল, এই ল্যাড়কা এদার আও। ইলু একটু একটু করে জিপ গাড়ির দিকে এগিয়ে গেল। ওপর হতে বাম হাতে সে খাঁচা ধরে আছে। ডান হাতে সে খাঁচার দরজার তার খুলতে লাগল ধীর লয়ে। জিপ গাড়ির কাছাকাছি গিয়ে গাড়িতে বসা ড্রাইভারের হাতে খাঁচাটা তুলে দিতে দিতে খাঁচার দরজার তার পুরোটা খুলে দিলো। ড্রাইভার খাঁচা হাতে নেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে লাল টিয়েগুলো পড়িমরি করে খাঁচা হতে ফুড়ুৎ ফুড়ুৎ বেরিয়ে উড়াল দিলো। ইলুও আর এক দণ্ড অপেক্ষা না করে বিজলির গতিতে ভোঁ-দৌড় দিলো।
বাড়ির উঠোনে এসে ইলু ভীষণ হাঁপাতে লাগল। মা দৌড়ে এসে ইলুকে বুকে জড়িয়ে ধরল। বলল, কিরে ইলু, মিলিটারি কি তোরে দৌড়াইছে। ইলু থেমে থেমে নিঃশ্বাস নিতে নিতে হেসে হেসে সব কথা মাকে খুলে বলল। হাসতে হাসতে ইলুর চোখে কান্না চলে এলো। ইলুর বুক পরম আনন্দে ভরে গেছে, পরম সুখে ইলু কাঁদতে লাগল। মা বুকে জড়িয়ে নিয়ে ইলুকে সান্ত্বনা দিয়ে বলল, আজ তুই অনেক মহৎ একটি কাজ করছস বাছা। হারামজাদা মিলিটারির নাদুসনুদুস পাখি খাওনের খায়েশে তুই ছাই ঢাইলা দিছস। ইলুর মা আকাশের দিকে চেয়ে খুব জোরে জোরে বললেন, আল্লাহ তুই এই হারামজাদাগো বিচার কর, তুই বিচার কর। তখন দুটি লাল টিয়ে শিস দিতে দিতে উড়ে গেল। ইলুর মনে হলো তারা যেন বলল, ইলু তুমি আমাদের অনেক ভালো বন্ধু, আমরা তোমাকে অনেক ভালোবাসি।