- মূল: এলসি স্পাইসার ইলস
- অনুবাদ: নেয়ামুল হক
অনেক কাল আগের কথা। নদীতীরে তালগাছের নিচে একটা ছোট মাটির ঘরে বাস করত এক জেলে ও তার স্ত্রী। তাদের অনেক সন্তান থাকায় তাদের দুর্ভাবনার অন্ত ছিল না। ছোট্ট ঘরটায় কোনোরকমে গাদাগাদি করে তারা বাস করত। এতজন মানুষের মুখে খাবার তুলে দিতে জেলেকে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত পরিশ্রম করতে হতো। একদিন তার সপ্তম পুত্র তাকে এসে বলল, বাবা, গতকাল নদীর ধারে খেলতে গিয়ে আমি একটা কুকুরছানা কুড়িয়ে পেয়েছি। দয়া করে কুকুরছানাটা বাড়িতে আনার অনুমতি দিন। অনেক দিন ধরেই আমার একটা কুকুর পোষার শখ।
জেলে নিজের ইচ্ছার বিরুদ্ধে সম্মতি দিলো। এতগুলো বাচ্চার খাবার জোগাড় করতে এমনিতেই তাকে হিমশিম খেতে হয়। তার ওপর কুকুরছানার জন্য খাবার সংগ্রহ তার কাছে বাড়তি বোঝা বলে মনে হলো। ভারাক্রান্ত মনে জেলে সেদিন নদীতে মাছ ধরতে গেল। সে বারংবার জাল ফেলে ব্যর্থ হলো। তার জালে একটা মাছও উঠল না। সে অপর পাড় থেকে জাল ফেলল। তাতেও কোনো ফল হলো না। এমনকি সে একটা ছোট মলা মাছও ধরতে পারল না।
হঠাৎ নদীর গভীর তলদেশ থেকে একটা গায়েবি কণ্ঠস্বর ভেসে এলো। বলল, যদি তুমি অঙ্গীকার করো যে বাড়িতে ফিরে গিয়ে তুমি যা নতুন দেখবে তা আমাকে দিয়ে দিবে তাহলে আমি তোমার ভাগ্য বদলে দিবো। তুমি যত চাইবে, তত মাছ ধরতে পারবে।
সপ্তম পুত্রের সকালের অনুরোধের কথা তখন জেলের মনে পড়ল। মনে মনে ভাবল, বাড়িতে ফিরে গিয়ে আমি যে নতুন জিনিস খুঁজে পাব তা হলো ওই কুকুরছানা। কুকুরছানাটা বাড়িতে রাখা থেকে রেহাই পেতে এটি হবে মোক্ষম উপায় যা আমি কোনোভাবেই রাখতে চাইনি।
নদীর গভীর থেকে উঠে আসা অদ্ভুত কণ্ঠের প্রস্তাবে তাই রাজি হয়ে গেল জেলে। তোমাকে অবশ্যই এ শপথ তোমার রক্ত দিয়ে সম্পন্ন করতে হবে, অচেনা কণ্ঠটি বলল।
জেলে তার ধারালো ছুরি বের করে আঙুল কেটে কয়েক ফোঁটা রক্ত নদীতে ফেলে দিলো। নদীর তলদেশ থেকে গম্ভীর কণ্ঠটি তখন বলে উঠল, তুমি যদি এ শপথ ভঙ্গ করো তাহলে তোমার ও তোমার সন্তানদের/ওপর জলদানবের অভিশাপ আজীবন থাকবে।
তারপর জেলে জলদানবের নির্দেশনা মতো জাল ফেলল। জালে এবার এত মাছ ধরা পড়ল যে তার জাল তুলতে অনেক কষ্ট হলো। পরপর তিনবার সে নদীতে জাল ফেলল আর এত মাছ পেল যে তার মাছ রাখার পাত্র ভেঙে যাওয়ার উপক্রম হলো। সত্যিই এটি একটি সৌভাগ্যজনক ঘটনা, লোকটা বলল। আজ এত মাছ পেয়েছি যে আমার পরিবারের চাহিদা মিটিয়ে অতিরিক্ত মাছ বিক্রি করতে পারব।
জেলে তার মাছভরতি ঝুড়ি নিয়ে বাড়ির কাছাকাছি আসতেই তার এক বাচ্চা ছুটে এসে বলল, ও বাবা, অনুমান করুনতো আমাদের বাড়িতে এখন কী আছে যা আপনি কাজে যাওয়ার সময় ছিল না।
-একটা নতুন কুকুরছানা, তার বাবা উত্তর দিলো।
-ওহ না বাবা, তোমার অনুমান ঠিক হয়নি। আমাদের একটা ভাই হয়েছে।
-এখন আমি কী করব, এখন আমি কী করব, কান্নায় ভেঙে পড়ল বেচারা জেলে। সে কাঁদতে কাঁদতে বলল, জলদানবের কাছে করা শপথ ভাঙার সাহস আমার নেই।
জেলের কাছে সব শুনে জেলের স্ত্রীর হৃদয় ভেঙে গেল। কিন্তু জলদানবের সাথে করা চুক্তি থেকে নিস্তার পাওয়ার কোনো উপায় তাদের জানা ছিল না। তাই ছোট্ট শিশুটির কপালে বিদায় চুম্বন দিয়ে মা তাকে আশীর্বাদ করল। তারপর জেলে শিশুটিকে নিয়ে নদীর তীরে গেল এবং নদীর যে জায়গা থেকে গায়েবি আওয়াজ এসেছিল সেখানে শিশুটিকে ভাসিয়ে দিলো।
সেখানে নদীর গভীরে দানবটা নবজাত শিশুটিকে গ্রহণ করার জন্য অপেক্ষা করছিল। সে শিশুটিকে তার সোনা-রুপাখচিত প্রাসাদে নিয়ে গিয়ে মহামূল্যবান মণিমুক্তা ও হীরার অলংকার পরিয়ে দিলো। আর পরম যত্নে তার পরিপালনের ব্যবস্থা করল।
অনেক দিন কেটে গেল। ছোট্ট ছেলেটি বড় হয়ে উঠল। এখন সে পনেরো বছর বয়সি লম্বা আর সুস্বাস্থ্যের অধিকারী সুদর্শন কিশোর। যার চোখ নদীর মতো গভীর এবং চুল নদীর গভীর ছায়ার মতো কালো। সে প্রাচুর্যে ভরপুর বিলাসিতায় বড় হচ্ছিল কিন্তু কখনও কোনো মানুষের দেখা পায়নি। এমনকি জলদানবকেও সে দেখেনি কোনোদিন। সে শুধু একটা কণ্ঠস্বরকে চিনত যার আদেশে প্রাসাদ পরিচালিত হতো।
একদিন জলদানব বলল, আমাকে লম্বা সফরে যেতে হবে। আমি তোমার কাছে প্রাসাদের সমস্ত চাবি রেখে যাব। কিন্তু কোনোকিছুতে হস্তক্ষেপ করবে না। যদি হস্তক্ষেপ করো তবে তোমাকে মরতে হবে।
বেশ কিছুদিন কেটে গেল। দানবের কণ্ঠ শোনা গেল না।
ছেলেটির বেশ নিস্তব্ধ আর নিঃসঙ্গ লাগল। অতঃপর পনেরো দিন শেষে সে দানবের রেখে যাওয়া চাবিগুলো থেকে একটা চাবি নিলো এবং যে তালায় চাবিটা কাজ করল সেটা খুলে ফেলল। দরজাটা খুলতেই সে একটা ঘর দেখল যেখানে সে কখনও যায়নি। ঘরের ভেতরে একটা হৃষ্টপুষ্ট বিশালাকৃতির সিংহ দেখতে পেল। কিন্তু তার সামনে খড় ছাড়া খাওয়ার আর কিছু ছিল না। ছেলেটি কোনো হস্তক্ষেপ না করে দরজা বন্ধ করে দিলো।
আরও পনেরো দিন কেটে গেল। ছেলেটা আবার একটা চাবি নিলো। সে প্রাসাদের আর একটা দরজা খুলল যেখানে সে কখনও যায়নি। সে ঘরের ভেতর তিনটি ঘোড়া দেখতে পেল। একটি কালো, একটি সাদা এবং একটি ছিল গাঢ় বাদামি রঙের। মাংস ছাড়া ঘোড়াগুলোর খাওয়ার কিছুই সেখানে ছিল না। তা সত্ত্বেও ঘোড়াগুলো ছিল বেশ হৃষ্টপুষ্ট । ছেলেটা কোনোকিছু স্পর্শ না করে বাইরে এসে দরজা বন্ধ করে দিলো।
তারও পনেরো দিন পরে জলদানব না ফেরায় ছেলেটি চাবি দিয়ে আরেকটা দরজা খুলল। এ কক্ষটি যুদ্ধাস্ত্রে পরিপূর্ণ ছিল। সেখানে ছিল ছোরা, বিভিন্ন ধরনের ছুরি, তলোয়ার, আগ্নেয়াস্ত্র আর বর্ম যা সে আগে কখনও দেখেনি। এসব দেখে সে খুব উৎসাহী হলেও কোনোকিছুতে হস্তক্ষেপ করল না।
পরের দিন ছেলেটা আবার সেই ঘরটা খুলল যেখানে ঘোড়াগুলো রাখা ছিল। তখন ঘোড়াগুলোর মধ্য থেকে কালো রঙের ঘোড়াটি তাকে বলল, আমরা মাংসের চেয়ে খড় খেতে বেশি ভালোবাসি। ভুল করে আমাদের মাংস দেওয়া হয়েছে। সিংহকে আামাদের খড় দেওয়া হয়েছে। দয়া করে সিংহকে মাংস দিয়ে আমাদের খড় এনে দাও। যদি তুমি আমার অনুরোধ রাখো তবে আমি চিরকাল তোমার সেবা করব।
ছেলেটা সিংহের কাছে মাংস নিয়ে গেল। খড়ের পরিবর্তে মাংস পেয়ে সিংহ খুব খুশি হলো। তারপর ঘোড়ার কাছে খড় নিয়ে গেল। তখনই তার মনে পড়ল যে তাকে কোনোকিছুতে হস্তক্ষেপ করতে বারণ করা হয়েছিল। হস্তক্ষেপতো সে করে ফেলেছে। সে কান্নায় ভেঙে পড়ল। কাঁদতে কাঁদতে বলতে লাগল, এই কাজের শাস্তি হিসেবে আমি আমার জীবন হারাব।
ঘোড়াগুলো অবাক হয়ে সব শুনল। কালো ঘোড়াটি বলল, আমার জন্য তুমি বিপদে পড়েছ, আমিই তোমাকে বিপদ থেকে রক্ষা করব। আমার ওপর আস্থা রাখো, একটা উপায় বের করবই।
কালো ঘোড়াটি ছেলেটাকে কিছু অতিরিক্ত জামাকাপড়, একটি তরবারি এবং আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে তার পিঠে চড়ে বসার পরামর্শ দিলো। ঘোড়াটি বলল, আমি এখানে নদীর গভীরে এতদিন বাস করেছি যে আমার গতি নদীর চেয়েও দ্রুত হয়েছে। আগে এ ব্যাপারে সন্দেহ থাকলেও খড় খাওয়ার পর আমি নিশ্চিত যে আমি পৃথিবীর যেকোনো নদীর চেয়ে দ্রুত ছুটতে পারব।
জলদানব ফিরে এসে যখনই দেখল যে ছেলেটি হস্তক্ষেপ করেছে, সে ছেলেটিকে শাস্তি দেওয়ার জন্য ছুটে গেল। কিন্তু ততক্ষণে কালো ঘোড়া ছেলেটাকে দানবের নাগালের বাইরে নিরাপদ দূরত্বে নিয়ে গেল।
কালো ঘোড়া তার সওয়ারি নিয়ে ছুটতে ছুটতে এমন এক রাজ্যে পৌঁছালো যে রাজ্যের রাজার ছিল তিনটি কন্যা। ছেলেটি রাজার কাছে কাজের জন্য আবেদন করল। রাজা বলল, তুমি কোনো কাজের উপযুক্ত বুঝতে পারছি না। তোমার হাততো ফরসা আর নরম। হয়তো তুমি বাগানের ফুল দিয়ে তোড়া বানিয়ে প্রতিদিন সকালে আমার কন্যাদের কাছে নিয়ে যেতে পারবে।
ছেলেটি যখন বাগানের ফুল দিয়ে তোড়া বানিয়ে রাজকন্যাদের জন্য নিয়ে গেল, কনিষ্ঠা রাজকন্যা তার নদীর মতো গভীর কালো চোখ দেখে তার প্রেমে পড়ে গেল। বড় রাজকন্যারা ছোট বোনকে নিয়ে হাসাহাসি করল। তোমাদের কথায় আমার কিছু আসে যায় না, ছোট রাজকন্যা বোনদের বলল। সে আমাদের বারান্দার নিচে গান গাচ্ছিল আমি মুগ্ধ হয়ে শুনেছি। তাছাড়া যে-কোনো রাজকুমারের চেয়ে সে অনেক বেশি সুদর্শন।
সেই রাতে প্রতিবেশী রাজ্যের দুই রাজকুমার রাজকন্যাদের বারান্দার নিচে প্রাসাদের বাগানে গান গাইতে এলো। বড় রাজকন্যারা ছিল দেমাকি ও অহংকারী। অপর দিকে ছোট রাজকন্যা ছিল লাবণ্যময়ী ও মায়াবতী। তাই সব রাজকুমারাই তাকে খুব পছন্দ করত।
ছেলেটি রাজকুমারদের গান শুনে বলল, আমি যদি ওদের মতো হতাম আর ওদের মতো গান গাইতে পারতাম। ঠিক তখনই সে বাগানের ঝরনায় নিজের প্রতিবিম্ব দেখতে পেল। দেখল সে তাদের চাইতেও সুন্দর। সে সিদ্ধান্ত নিলো সেও রাজকন্যাদের বারান্দার নিচে গান গাইবে।
সে জানত না যে সে গান গাইতে পারে। সত্যিকার অর্থে তার কণ্ঠে ছিল নদীর স্রোতোধারার মতো সুর। সে যখন গান গাইতে শুরু করল প্রতিদ্বন্দ্বী দুই রাজকুমারও নিজেদের গান থামিয়ে তার গান শুনতে থাকল। বড় রাজকন্যারা জানত না কে গান গাইছে। কিন্তু ছোট রাজকন্যা তাকে দেখেই চিনতে পারে।
পরের দিন রাজ্যে এক জমকালো প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। নদী থেকে উঠে আসা ছেলেটি কখনও এসব প্রতিযোগিতা দেখেনি। কিন্তু কিছুক্ষণ দেখেই ছেলেটি সিদ্ধান্ত নেয় সেও প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করবে। জলদানবের প্রাসাদ থেকে আনা পোশাক ও অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে সেই নদীর তলদেশ থেকে তার সাথে আসা কালো ঘোড়ায় চড়ে সে অনুষ্ঠানে যোগ দিলো। রাজকীয় সাজ পোশাকে তেজস্বী ও সুন্দর ঘোড়ায় উপবিষ্ট ছেলেটিকে সবচেয়ে সম্ভ্রান্ত ও আকর্ষণীয় লাগছিল। সবাই অবাক হয়ে দেখছিল, কে এই সম্মানিত বীর যোদ্ধা। ছোট রাজকন্যা ছাড়া কেউ তাকে চিনতে পারল না। রাজকন্যা তাকে দেখামাত্রই চিনে ফেলে এবং তাকে ফিতা পরিয়ে দেয়।
পরদিন প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া সকল বীর একটি বন্যজন্তুকে মারার জন্য রওয়ানা দিলো যেটি প্রায়শই জঙ্গল থেকে বেরিয়ে এসে শহরে তাণ্ডব চালাতো। কিন্তু কিছুদূর এসেই তারা জানতে পারল অপরিচিত সুদর্শন ছেলেটি ইতোমধ্যে পশুটিকে হত্যা করেছে। প্রাসাদে ফিরে এসে এ সংবাদ দিলে রাজা ঘোষণা দিলেন, আগামীকাল রাতে রাজপ্রাসাদে এমন এক মহোৎসবের আয়োজন করা হবে যা এই প্রাসাদে এযাবৎ কালে হয়নি। তাই উপস্থিত সকল বীরকে ভোজের জন্য আগামীকাল পাখি শিকারে যেতে হবে।
পরের দিন সবাই পাখি শিকারে গেল। নদী থেকে উঠে আসা ছেলেটিই শুধু পাখি শিকার করতে সক্ষম হলো। বাকিরা কেউ সফল হলো না। প্রতিবেশী রাজ্যের রাজকুমারেরা যারা ছোট রাজকন্যার পাণিপ্রার্থী, তারা ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হলো। একে অপরকে বলল, এই অপরিচিত ব্যক্তিকে আমরা আমাদের সম্মান কেড়ে নিতে দিতে পারি না। তুমি বলবে তুমি জন্তুটাকে হত্যা করেছ, আর আমি বলব আমি পাখি শিকার করেছি।
সেই রাতে উৎসবে একজন রাজপুত্র রাজার সামনে দাঁড়িয়ে বন্যজন্তু হত্যার গল্প বলল, আর অন্য রাজপুত্র উঠে দাঁড়িয়ে বলল কীভাবে সে পাখি শিকার করেছে। অন্যান্য বীরেরা জানত এটা সত্য নয়। কিন্তু তারা যে এইসব বীরত্বপূর্ণ কাজগুলো করেছে তাকে কোথাও খুঁজে পেল না। কারণ নদী থেকে উঠে আসা ছেলেটি তখন বাগানের সেবকের পোশাক পরে অন্যান্য ভৃত্যের সাথে ভোজসভার নিচের অংশে দাঁড়িয়ে ছিল।
রাজা দুই রাজকুমারের গল্প শুনে তাদের বীরত্বে খুবই খুশি হলেন। তিনি বললেন, যে বন্য জন্তুটিকে মেরেছে সে এক রাজকন্যাকে বউ হিসেবে পাবে। আর যে পাখি শিকার করেছে সেও এক রাজকন্যাকে বিয়ে করার সুযোগ পাবে।
ছোট রাজকন্যা নদী থেকে উঠে আসা ছেলেটিকে চাকরদের মধ্যে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে তার চোখে চোখ রেখে মিষ্টি করে হাসল। ছেলেটি তখন রাজার সামনে গিয়ে বলল, হে মহামান্য রাজা, আপনি যে গল্পগুলো শুনেছেন সেগুলো মিথ্যা, সমবেত বীরেরাই তার সাক্ষী। আমিই বন্যজন্তুকে মেরেছি এবং পাখি শিকার করেছি। আমি ছোট রাজকন্যাকে বধূ হিসেবে চাই।
উপস্থিত বীরেরা বাগান সেবকের পোশাকেও ছেলেটিকে চিনতে পারল। তারা চিৎকার করে ওঠে, জয় হোক, জয় হোক। রাজাকে জানায়, সে সত্য বলছে। আমাদের মধ্যে সে সবচেয়ে সাহসী বীর কারণ সে-ই বন্যজন্তুটিকে হত্যা করছে এবং পাখি শিকার করেছে। সেই পুরস্কারের ন্যায্য দাবিদার।
ছোট রাজকন্যার হৃদয় আনন্দে ভরে গেল। পরের দিন খুব ধুমধাম করে রাজা ছোট রাজকন্যার সাথে নদী থেকে উঠে আসা ছেলেটির বিয়ের আয়োজন করলেন।
জলদানব এই বিয়ের খবর জানতে পেরে তার প্রাসাদে প্রতিপালিত ছেলেটির নববধূকে হীরা-মুক্তাখচিত হার উপহার পাঠালো।
জেলে এবং তার স্ত্রী তাদের ছেলের এই সৌভাগ্যের কথা কখনওই জানতে পারল না।