রং বদলের ইচ্ছা

  • আরিয়েত্তি ইসলাম

পরির দেশে একটা ছোট্ট গোলাপি রঙের পরি থাকত। কিন্তু সেই পরির গোলাপি রং একেবারেই পছন্দ হত না। তার পছন্দ ছিল আকাশের মতো নীল রং। কীভাবে নিজে নীল রঙের পরি হবে, তাই শুধু ভাবত। অন্য পরিরা তাকে বলত, ‘কেন তুমি নীল হতে চাও ? তুমি যে রঙের আছ সেটাই খুব সুন্দর। জানো, পৃথিবীর বাচ্চারা পর্যন্ত তাদের বইতে গোলাপি রঙের পরির ছবি চায়।’ কিন্তু গোলাপি পরি কারো কথায় শোনে না। সারাদিন ‘নীল পরি হব, নীল পরি হব’ করে সবার মাথা খারাপ করে দিত। অগত্যা বড় পরিরা ছোট্ট গোলাপি পরির ইচ্ছার কথা রানিকে বলে।
পরিদের রানি যেমন সুন্দর ছিল, তেমন ছিল তার ব্যবহার। রানির গায়ের রংও ছিল সবুজের মাঝে সোনালি -রুপালি আভা। রানি সারাদিন ঘুরে বেড়ায়, মজা করে। রানি চাইত তার রাজ্যের সব পরি হাসিখুশি থাকুক, মজা করুক। সে সবার সমস্যার সমাধান করে। রানির সাথে কথা বললেও অন্য পরিদের মন ভালো হয়ে যায়।
রানির ছিল জাদুর ক্ষমতা। সে অনেক কিছুর রং বদলাতে পারত। পরিদের শরীরের রংও পরিবর্তন করতে পারত, তবে তা শুধু একবারই। পছন্দ না হলে আর নিজের রঙে ফিরে আসার কোনো উপায় ছিল না। ছোট গোলাপি পরির ইচ্ছার কথা জানার পর রানির একটাই চিন্তা, কীভাবে তার ইচ্ছা পূরণ করা যায়। অনেকদিন ভাবার পর একটা উপায় বের করে। উপায়টাও ছিল খুব মজার। বড় পরিদের ডেকে রানি নিজের ভাবনার কথা বলে। বুদ্ধিটা সবাই পছন্দ করল। গোলাপি পরি তো খুব খুশি, সে এখন নীল পরি হয়ে যাবে!
সবাই মিলে ছোট্ট পরির পুরো শরীরে নীল রং করে দিলো। ছোট্ট পরিটা খুশি হয়ে দৌড়ে আয়নাতে নিজেকে দেখতে গেল। তার ছোট্ট নাকটা নীলে যেন তেমন মানাচ্ছে না। নীল চুল কেমন যেন। নীল হাতের আঙুলগুলো যেন বেশিই শুকনো দেখা যাচ্ছে। কিছুই পছন্দ হয় না। লজ্জায় তো কাউকে বলতেও পারছে না যে, এখন তার নীল পরি হবার শখ মিটে গেছে বললে, বড়রা বকবে, ছোটরা তাকে নিয়ে হাসাহাসি করবে।
অনেক চিন্তা ভাবনা করে দুরুদুরু বুকে সে রানির কাছে গিয়ে বলল, ‘আমি গোলাপি পরিই থাকতে চাই।’
রানি বলল, ‘ভালো করে চিন্তা-ভাবনা করে বলছো তো?’ ছোট্ট পরি তার মাথাটা একদিকে হেলিয়ে বুঝিয়ে দিলো, সে চিন্তা-ভাবনা করেই বলছে।
রানির সভাসদেরা বলল, ‘দেখো মেয়ে, রানি অনেক ঝামেলা করে তোমাকে নীল করেছিল। এটা পরিবর্তন করলে আর কখনও কিন্তু নীল পরি হতে পারবে না।’
ছোট্ট পরি অধৈর্য হয়ে কেঁদে বলে, ‘আমি আর কখনও নীল হতে চাইব না। দয়া করে আমাকে গোলাপি করে দিন।’
তখন সবাই ঠোঁট টিপে হেসে পদ্ম পুকুরে ওকে গোসল করিয়ে দিলো। আর নীল রং ধুয়ে সেই আগের গোলাপি পরি হয়ে গেল।
নিজের হাত-পা-চোখ-মুখ ভালো করে আবার আয়নাতে দেখতে দেখতে খুশি হয়ে ওঠে। নিজে নিজে বলে, ‘যে যেমন, সে তেমনই সুন্দর।’ তারপর তার ডানা মেলে উড়তে থাকে, আর গান গাইতে থাকে। গোলাপি পরিকে অনেক দিন পর এত খুশি দেখে রানি সহ সবাই খুব খুশি হয়।
দ্বিতীয় শ্রেণি। মনিপুর উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *