বকুল ঝরে গেল

  • রাঈদা মুসাররাত

বকুল সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী। ক্লাসে রোল-১। এই নিয়েই তার যত অহংকার।
সামনে আর মাত্র ২ সপ্তাহ, এর পরই বার্ষিক পরীক্ষা। সবাই বইয়ের ওপর উপুড় হয়ে পড়েছে। তবে বকুলের ভাবনা অন্যরকম, সে ভাবছে, ‘আমি তো রোল-১, আমার কি আর অত পড়ার দরকার আছে নাকি? পরীক্ষার আগে একবার চোখ বুলালেই একবারে পরীক্ষার সেঞ্চুরি, এসব নিয়ে মাথাব্যথা করে লাভ নেই।’
বকুলের মাথাব্যথা না হলেও মাথাব্যথা হচ্ছে তার আম্মুর তাকে নিয়ে। তার আম্মু ভীষণ চিন্তিত। ‘কী হবে এই মেয়ের?’ এভাবে হেলা-ফেলা করে এক সপ্তাহ গিয়ে পরীক্ষার জন্য বাকি থাকল আর এক সপ্তাহ। সবাই আরও মনোযোগী হয়ে পড়েছে পড়ায়। এদিকে বকুলের মধ্যে এখনও পর্যন্ত কোনোরকমের চিন্তা বা ভয় বা উত্তেজনার কোনো ছিটে-ফোঁটাও নেই। যত দিন যায় তার আম্মুর চিন্তা যেন আরও দ্বিগুণ হয়। আম্মুকে এমন চিন্তিত দেখে বকুল বলে, ‘আম্মু তুমি শুধুশুধু এত চিন্তা করছ কেন? আরে, আমি এত্ত ব্রিলিয়েন্ট একজন স্টুডেন্ট, আর তুমি কি না আমাকে নিয়ে চিন্তা করছ! তুমি না শুধুশুধুই চিন্তা করো।’
[পরীক্ষার আগের দিন রাত, অনেক জোরাজুরির পর বকুল বই নিয়ে বসেছে]
বকুল: উফ আম্মু, তুমি আমাকে কোনো কারণ ছাড়াই পড়তে বসালে, আমি রোল-১, কখনও কি আমার কম নম্বর পাওয়ার সম্ভাবনা থাকে?
আম্মু: নিজেকে এত বড় কিছু ভেবো না, বকুল। এত্ত হেলা-ফেলা করে কেউ কখনও ভালো ফল আনতে পারে না, সে যতই মেধাবীই হোক না কেন, বুঝেছ? এখন আর কথা না বাড়িয়ে কালকের রুটিনে কী পরীক্ষা আছে সেটা দেখে পড়া শুরু করো।
বকুল: কিন্তু আমি তো রুটিন লিখে আনিনি।
আম্মু: কেন আনোনি?
বকুল: কালকে যেই পরীক্ষাই হোক, আমি তো পারবই।
এই কথা শুনে আম্মু অধৈর্য হয়ে উঠে চলে গেল। আর বকুল বই বন্ধ করে পড়ার টেবিল থেকে উঠে ঘুমাতে চলে গেল।
[পরের দিন]
পরীক্ষা দুপুর ১২টা থেকে শুরু হবে, সবাই সকালে রিভাইস দিচ্ছে। বকুলও উঠল ঠিকই, কিন্তু পড়তে বসল না। আজ তার মা বাধ্য হলো তাকে বকা দিতে। বকা খেয়ে ফোঁপাতে ফোঁপাতে পড়লেও তার পড়ায় কোনো মনোযোগ ছিল না। তার আম্মুর তো এখন চিন্তায় প্রায় অসুস্থ হয়ে যাওয়ার মতো অবস্থা । এত দিনের সম্মান সব তো শেষ হয়ে যাবে যদি বকুল খারাপ ফল করে। তার পরীক্ষার সময় হয়ে গেল। আস্তে আস্তে তার সব গুলো পরীক্ষার শেষ হয়ে গেল।
এরপর ফলাফল প্রকাশের দিন চলে এলো। খুব বড় মুখ নিয়ে ফলাফল নিতে ঢুকল। তার ম্যাডাম যখন তার নাম ১৫তম স্থানে ডাকল, সে তো অবাক! সবাই তার দিকে অবাক হয়ে তাকিয়ে রইল এবং সে মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে রইল। এটা ছিল জীবনের সবচেয়ে অপমানজনক ঘটনা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *