তিনটি ভুতের গল্প

আলী আহসান
আলী আহসান – চিত্ত যেথা ভয়শূন্য, উচ্চ যেথা শির…
সর্বশেষ হালনাগাদ: 6 August, 2026, সময় 12:17
6 মিনিটে পড়ে ফেলো

তোমাদের জন্য লিখেছে : আলী আহসান


গল্প–১: খাট

মুনা রাতে একা একা ঘুমাতে ভয় পায়।
তার মনে হয় রাতে খাটের নিচের জমাট অন্ধকারটার ভেতর থেকে কেউ একজন তার দিকে সারাক্ষণ খেয়াল রাখছে। খুব বেশি রাতে ঘুম ভেঙ্গে উঠে ঘরের কোণের পুরোনো মেহগনি কাঠের খাটটার দিকে তাকিয়ে তার বুকটা ধক করে ওঠে। দ্রুত কম্বল মুড়ি দিয়ে আবার ঘুমোতে যায়। তবে সেই ঘুম কি আর এত্ত সহজে আসে?

মা শুনে হেসে উড়িয়ে দিয়ে বলে, “ধুর পাগল! ভূত-টূত বলে কিছু আছে নাকি? সব মনের ভুল।”

কিন্তু মুনার তা মনে হয়না। মুনার মনে হয় বড়রা আসলে সবকিছু ঠিকঠাক বুঝতে পারেনা। তারা ভাবে তারা জ্ঞানী আসলে তারা মস্ত বোকা।

তবে পড়াশোনা ও স্কুলের চাপ সামলাতে গিয়ে সেই ভয় আস্তে আস্তে ভুলে যেতে থাকে মুনা, বয়স বাড়ার সাথে সাথে একপর্যায়ে তার মনে হতে থাকে যে আসলেই হয়তো ভুত-টূত বলে কিছু হয়না। এসব আসলে মনের ভুল।

তবে মুনার ভুল ভাঙল এক নিঝুম বর্ষার রাতে। বাইরে তখন ঝুম বৃষ্টি আর ঘরের ভেতরটায় ঘুটঘুটে অন্ধকার। কারেন্ট চলে গেলো হুট করে। মুনা গরমে ঘেমে ঘুম থেকে উঠে মোম জ্বালালো তবে কিছুক্ষণের মধ্যে তা দপ করে নিভে গিয়ে ঘরের মধ্যে তুমুল অন্ধকারে ছেয়ে গেলো। এভাবে কিছু সময় পার হবার পরে মুনার মনে হলো তার খাটের নিচে কিছু একটা জীবন্ত নড়ছে। যাহ্…। ইদুরের উৎপাতে আর থাকা গেলোনা!

কি হচ্ছে ব্যপারটা আরো ভালো করে বুঝতে চেয়ে মুনা সাহস করে বিছানা থেকে নামলো। কম্বলটা একটু ঝুলিয়ে, মাথাটা নিচু করে খাটের নিচের অন্ধকারটায় তাকাল।

হঠাৎ তার শরীরের রক্ত হিম হয়ে গেল! খাটের নিচে, ঠিক মেঝের সাথে মিশে দুটো জ্বলজ্বলে ভাঁটার মতো চোখ তার দিকেই তাকিয়ে আছে। অবয়বটা ঠিক মানুষের মতো, কিন্তু হাত-পাগুলো কেমন যেন অদ্ভুত লম্বা আর বাঁকানো।

মুনার সারা গায়ে ভয়ের স্রোত বয়ে গেলেও সাহস করে কাঁপতে কাঁপতে ফিসফিস করে বলল, “ক-কে ওখানে?”

খাটের নিচ থেকে একটা খসখসে, শুকনো পাতার মতো গলার আওয়াজ ভেসে এল-

“চুপ! একদম চুপ! তুমি ঘুমাও। আমি একটুও শব্দ সহ্য করতে পারি না…”

মুনা চিৎকার করতে চাইল, কিন্তু ভয়ে তার গলা দিয়ে কোনো আওয়াজ বেরোল না। ঠিক তখনই সে অনুভব করল, তার পিঠের নিচের ভারী খাটটা আস্তে আস্তে ওপর-নিচ করে দুলতে শুরু করেছে! যেন নিচের সেই অমানুষিক জীবটা পুরো ঘর পিঠে নিয়ে নাচছে!

পরদিন সকালে মা মুনার ঘরে ঢুকে দেখলেন মুনা খাটের নিচে ধুলোবালির মধ্যে গুটিসুটি মেরে অঘোরে ঘুমাচ্ছে। আর খাটের ওপর কম্বল মুড়ি দিয়ে শুয়ে আছে অন্য কেউ… যার লম্বা লম্বা পায়ের আঙুলগুলো কম্বলের বাইরে বের হয়ে আছে!


গল্প–২: রেডিও

অয়ন পুরোনো জিনিসপত্র জমাতে খুব ভালোবাসে। সেদিন চোরবাজারের এক বুড়ো দোকানদারের কাছ থেকে সে একটা অদ্ভুত দেখতে কাঠের রেডিও কিনে আনল। রেডিওটার গায়ে কোনো কোম্পানির নাম নেই, শুধু নব্গুলো পিতলের আর স্পিকারের নেটটা কেমন যেন কালচে খসখসে। বুড়ো দোকানদার ফিসফিস করে বলেছিল, “বাবু, এটা সাধারণ রেডিও নয়। সাবধানে রাখবেন।”

অয়ন তখন হেসে উড়িয়ে দেয়। কিন্তু ভয় শুরু হলো সেই রাতেই।

রাত তখন ঠিক দুটো। পুরো বাড়ি ঘুমে নিঝুম। হঠাৎ অয়নের ঘরের টেবিলে রাখা বন্ধ রেডিওটা নিজে নিজেই অন হয়ে গেল! স্পিকার থেকে ঘড়ঘড়ে একটা আওয়াজ বেরোতে লাগল শশশ… ঘড়ঘড়… যেন অনেক দূর থেকে কোনো সংকেত ভেসে আসছে।

অয়ন ধড়ফড় করে বিছানায় উঠে বসল। সে রেডিওর সুইচটা বন্ধ করতে গেল, কিন্তু হাত দেওয়ার আগেই ঘড়ঘড়ে আওয়াজটা বন্ধ হয়ে একটা স্পষ্ট ঘোষণা শোনা গেল:

“আকাশবাণী ভূতলোক। এখন রাত দুটো বেজে পনেরো মিনিট। এবার শুনুন আজকের বিশেষ খবর… আজ রাতে এই পাড়ার অয়ন নামের একটি ছেলের ঘরে এক অদ্ভুত দুর্ঘটনা ঘটতে চলেছে।”

অয়নের পুরো শরীর ভয়ে জমে বরফ হয়ে গেল। রেডিওতে তার নিজের নাম নেওয়া হচ্ছে! সে কাঁপতে কাঁপতে রেডিওর তারটা দেয়ালের প্লাগ থেকে টেনে হিঁচড়ে খুলে ফেলল।

কিন্তু আশ্চর্যের বিষয়, কারেন্ট ছাড়াও রেডিওটা বন্ধ হলো না! এবার স্পিকার থেকে একটা ভারী, চ্যাপ্টা গলার কান্নার শব্দ ভেসে আসতে লাগল। একই সাথে অয়ন খেয়াল করল, তার ঘরের দেয়ালগুলো কেমন যেন আর্দ্র আর স্যাঁতসেঁতে হয়ে উঠছে। ঘরটায় পচা জলের গন্ধ ছড়িয়ে পড়ল।

ঠিক তখনই রেডিওর ঘোষক আবার বলে উঠল-

“খবর এখানেই শেষ। ঘড়িতে এখন রাত দুটো বেজে কুড়ি মিনিট। অয়ন এখন খুব ভয় পেয়েছে এবং সে টের পেয়েছে তার খাটের ঠিক পেছনে কেউ একজন দাঁড়িয়ে আছে…”

অয়ন আর পারল না। সে চোখ বন্ধ করে চিৎকার করতে চাইল, কিন্তু তার মুখ দিয়ে কোনো শব্দ বেরোল না। সে অনুভব করল, তার ঘাড়ের ঠিক পেছনে প্রচন্ড ঠান্ডা কিছুর অস্তিত্ব টের পাওয়া যাচ্ছে…

🌘 ছোট্ট সোনামনিদের জন্য সতর্কবার্তা

  • রাতে একা যেও না
  • মাঝরাতে যদি ঘরের কোনো বন্ধ ইলেকট্রনিক জিনিস নিজে নিজে চালু হয়ে যায় ভুলেও সেটার দিকে এগিয়ে যেও না।
  • আর খাটের নিচে তাকানোর আগে…
    ভেবে নিও, কেউ তাকিয়ে আছে কি না

বন্ধুরা খেয়াল করেছো?

তিনটি গল্পের জায়গায় মাত্র দু’টি গল্প। কী! মন খারাপ হলো?

আসলে আমি এখন ছুটিতে চলে যাচ্ছি তাই বাকিটুকু লিখতে পারছিনা। তাই তোমার কাজ হলো বাকি গল্পটা লিখে আমাদের পাঠানো। আমাদের ইমেইল হলোঃ chotodershomoy@gmail.com

এখানে পাঠিয়ে দাও আর অপেক্ষা করো। তোমার গল্প ছাপা হবে পরের অধ্যায়ে এবং সাথে পুরস্কার হিসেবে থাকছে বই, টাকা, ঘড়ি, গিফটবক্স, পেন্সিল সহ আরো কতকি!

অপেক্ষায় রইলাম তোমার লেখার। কেমন?

তোমার কেমন লেগেছে?

তোমার মতামত জানাও

Your email address will not be published. Required fields are marked *