রবীন্দ্রনাথের শিশুসাহিত্য

  • মঈনুল হক চৌধুরী

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। যিনি সবার কাছে বিশ্বকবি হিসেবে সুপরিচিত।

তিনি বড়দের জন্য যেমন সাহিত্য রচনা করে গেছেন, তেমনি ছোটদের জন্যও তার রয়েছে অসংখ্য লেখা। যাকে আমরা তার শিশুসাহিত্য হিসেবে অভিহিত করতে পারি। তাইতো বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে বড়োরা যেমন তার সাহিত্য পাঠ করে স্মরণ করেন, তেমনি ছোটদের হৃদয়ের মণিকোঠায় রবীন্দ্র নাথ আজও সমুজ্জ্বল। রবীন্দ্রনাথকে বলা হয় কবিদের কবি। কবিগুরু। তিনি আমাদের জাতীয় সংগীতেরও রচয়িতা।
বিশ্বের প্রায় সকল বাংলা-ভাষাভাষী পাঠকের প্রিয় কবি বিশ্বকবি রবি ঠাকুর। তিনি বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ সব্যসাচী লেখক। কবি গুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর সাহিত্যের সকল শাখায়ই পদচারণা করেছেন সগৌরবে। যখন যেখানে হাত দিয়েছেন তখনই তা হয়েছে সরস, উর্বর, বৈচিত্র্যময়। রবীন্দ্রনাথ ছিলেন সভ্যতা-সংস্কৃতি, কৃষ্টি-কালচার, মাটি ও মানুষের কবি। তাই শিশুরা তার স্নেহ থেকে বঞ্চিত হয়নি। শিশুদের জন্য তিনি লিখেছেন অসংখ্য ছড়া, কবিতা, গান, গল্প নাটকসহ নানা রকম শিশুতোষ রচনা।
উল্লেখ্য, নিতান্ত অল্প বয়সে জ্ঞান নন্দিনী দেবীর পরিচালনায় প্রকাশিত ‘বালক’ পত্রিকা লেখার ভার অনেকটাই নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছিলেন। ফলে সৃষ্ট হয়েছে ছড়া আর গল্পের পসরা।
জীবনের শেষ পর্যায়েও আরো মনোযোগ আর দরদের সঙ্গে শিশুসাহিত্য রচনায় আত্মনিয়োগ করেছিলেন তিনি। রবীন্দ্রনাথ শিশুদের জন্যে পচুর লিখেছেন। তার অসংখ্য, শিশুকাব্য ছড়া ও কবিতা রয়েছে। যেমন- শিশু, শিশু ভোলানাথ, খাপছড়া, ছড়া ও ছবি, গল্প-সল্প-কল্পনা, সহজ পাঠ ইত্যাদি অসংখ্য ছড়া ও কবিতাগ্রন্থ তিনি শিশুদের জন্য রচনা করেছেন। ছড়াগুলোকে রবীন্দ্রনাথ মেঘের সাথে তুলনা করেছেন। যখন ছোটদের জন্য লিখেছেন তখন তিনি যেন শিশুর চোখ নিয়েই দেখেছেন।
কবি যখন ছোট নদীর কথা তুলে ধরেন তখন তা পাঠ করে শিশুরা নিজ চোখে দেখা নদীটাকেই মনে মনে ধরে নেয়। বিচিত্র সাধ, কবিতায় আরো প্রসারিত হয়ে এই কবিতায় কবির শিশুমন গলির পাশে ফেরিওয়ালাকে দেখে ফেরিওয়ালাকে, মালীকে দেখে মালী, পাহারাদারকে দেখে পাহারাদার হতে চেয়েছেন। আর বীর পুরুষ কবিতায় কবি বীর হয়ে মাকে নিয়ে বিদেশ ঘুরতে বেড়িয়েছেন। পথের বাধা সৃষ্টিকারী ডাকাত দলগুলো।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *