- মাসুম আওয়াল
বাবা তুমি অনেক ভালো
ঘুরতে নিয়ে চলো,
ঘুরতে গিয়ে কিনবো পাখি
একটা টেনিস বলও।
লক্ষ্মী বাবা চলো না আজ
চিড়িয়াখানা যাই,
আজও তুমি বলবে না কি
হাতে সময় নাই।
শুনছো বাবা ব্যস্ত বলে
দিওনা প্লিজ ফাঁকি,
তোমার মেয়ে আয়না নিয়ে
সাজবে এখন পাখি।
আজ সারাদিন অনেক ঘুরে
অনেক মজা করে,
সন্ধ্যে নামার আগে আগেই
আসব ফিরে ঘরে।
ঘুরবো বলে ফুল পরেছি
চুলে বেঁধে ঝুঁটি,
অফিসটাকে দাও জানিয়ে
আজ আমাদের ছুটি।
খোকার ঈদ
নাঈম আল ইসলাম মাহিন
বাবা:
আচ্ছা খোকা
ঈদটা তোমার লাগছে কেমন বলো
ঈদ সকালে হঠাৎ কেন অশ্রু ছলছল
ওই যে দেখো উড়ছে পাখি
মিনার থেকে ডাকাডাকি
খানিক বাদেই ঈদের জামাত
নতুন কাপড় পরো
আতর মেখে সুবাস মেখে
হইহুল্লোড় করো।
ও, বুঝেছি নতুন জামায়
হওনি খুশি খোকা
কেনাকাটার এটাই কি শেষ
কাঁদিস কেন বোকা
নতুন আরো কত্তকিছু
কিনবো ছুটির শেষে
এখন না হয় কান্না ভুলে
ফিক করে দাও হেসে!
মা রেঁধেছে ফিরনি সেমাই
একটু না হয় খাও
ঈদ সেলামি লাগবে কত
হাত বাড়িয়ে দাও
তাও নেবে না? কষ্ট কোথায়?
নানুর বাড়ি যাবে?
নানার সাথে মেলায় ঘুরে
মুড়কি মুড়ি খাবে?
চুপ থেকো না খোকন সোনা
একটু কথা বলো
এই যে দেখো আমার চোখও
কিন্তু ছলছল!
খোকা :
ঈদ মোবারক বাবা, এটা
অনেক খুশির দিন
কিন্তু আমার চোখে কেবল
ভাসছে ফিলিস্তিন
সেই শিশুটির কান্না ভাসে
যার মা গেছে চলে
সেই বাবা যার বক্ষে মৃত
শিশুর কাফন দোলে
স্বজন হারা সেই খোকা যার
আহার কেবল ঘাস
ধ্বংস চাপায় আটকে গেছে
কান্না অভিশাপ!
কোথায় ওদের ঈদ আনন্দ
কোথায় রঙিন দিন
কেমন করে হাসবে আবার
গাজা ফিলিস্তিন!
চাঁদটা কেমন বিষণ্ন ঈদ
দুঃখের বেল বাজায়
রক্ত এবং চোখের পানি
এক হয়েছে গাজায়
কেমনে খাবো ফিরনি পোলাও
আঁকবো ঠোঁটে হাসি
স্বজনহারা হাজার চোখের
অশ্রু রাশি রাশি
এবং তাদের খুন মাখানো
ঝলসে যাওয়া দেহ
ফিলিস্তিনে ঈদ মোবারক
বলবে এবার কেহ!
তোমরা যারা ভাই আমাদের
দূরে আছো, দিচ্ছি কথা
এবার ঈদে ওড়াবো না
মিথ্যে খুশির ফানুস!
লক্ষ কোটি ভালোবাসা
ঈদ মোবারক পাঠিয়ে দিলাম
ওহে গাজার মানুষ!
বাবা:
আজ যার বাড়িঘর স্বপ্ন স্বদেশ
ধ্বংসের গহ্বরে হলো নিঃশেষ
রক্তের রঙে রঙে আসে রোজা ঈদ
পিতা-মাতা ভাই-বোন হয়েছে শহিদ
যার চোখে পৃথিবীর তিন ভাগ জল
লড়াইটা শুধু তার শেষ সম্বল!