ভুলের মাশুল

  • শাহিয়ান মুত্তাকী

সুমন প্রতিদিনের মতো স্কুলে রওনা দিলো। তার একটা বদ অভ্যাস আছে। যাওয়ার সময় আজও রাস্তায় একটা কলার খোসা ফেলে গেল। নিয়মিতই সে এ কাজটা করে। কলার খোসা, আমের খোসা বা পিছলে পড়ার মতো যে-কোনোকিছু রাস্তায় ফেলে রেখে পাশে দাঁড়িয়ে তামাশা দেখে। তার ফেলে রাখা খোসায় পা পিছলে কেউ পড়ে গেলে সে খুব আনন্দ পায়। আনন্দে মুখ টিপে টিপে হাসে।
সেদিনও পিছলে পড়ে যায় পাশের বাড়ির রহীম চাচা। কোমরে খুব ব্যথা পায়। এতে তার মনে কোনো দুঃখ বা আফসোস লাগে না। কিছু দিন পর তার খুব কাছের বন্ধু রিয়ান পিছলে পড়ে যায়। সে খুব ব্যথা পায়। সুমন দূর থেকে দেখেও না দেখার ভান করে। এভাবে দিনের পর দিন সে এ কাজটি করতে থাকে।
গত কয়েকদিন ধরে তাদের এলাকায় ঘনঘন বিদ্যুৎ চলে যায়। বিকেল বেলা কোচিং এ যাওয়ার সময় আতা ফলের একটি খোসা রাস্তায় ফেলে যায়। সন্ধ্যার পর কোচিং শেষে বাসায় ফেরার সময় বিদ্যুৎ ছিল না। অন্ধকারে ঠিকভাবে কিছু দেখা যাচ্ছিল না। হঠাৎ সুমন তার নিজের ফেলে যাওয়া আতা ফলের খোসায় নিজেই পা পিছলে ধপাস করে পড়ে যায়। পড়ে গিয়ে এত বেশি ব্যথা পায়। যে, নিজের চেষ্টায় দাঁড়াতে পারছিল না। রাস্তায় থাকা লোকজন কোনোরকম ধরাধরি করে বাসায় নিয়ে আসে। পরে তাকে জরুরি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। এক্সরে করে দেখা যায় তার ডান পায়ের হাড়টি দুই জায়গায় ভেঙে গেছে। ডাক্তার বলেছেন, খুব জটিলভাবে ভেঙেছে। অপারেশন লাগতে পারে। পুরোপুরি ঠিক হতে দুই-তিন মাস সময় লাগতে পারে।
হাসপাতালের ক্যাবিন বেডে শুয়ে শুয়ে সুমন ভাবতে থাকে, এতদিন কত মানুষকে কষ্ট দিয়েছি। দূর থেকে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে অন্যের কষ্ট দেখে মজা করেছি। এবার নিজের ফাঁদে নিজেই ধরা পড়লাম! এখন বুঝতে পারছি, এভাবে অযথা মানুষকে কষ্ট দেওয়া ঠিক নয়। সুমন তার নিজের ভুল বুঝতে পারে। মনে মনে প্রতিজ্ঞা করে এবার সুস্থ হলে রাস্তায় ক্ষতিকারক জিনিস দেখলেই তা সরানোর কাজ করবে। বন্ধুদেরকে এ কাজে উৎসাহিত করবে। এতদিন ধরে নিজের করা ভুলের এটাই উত্তম মাশুল। 
মতিঝিল মডেল স্কুল এন্ড কলেজ, ঢাকা

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *