-জাকির হোসেন কামাল
বইমেলা ও সাহিত্যের বিকাশ—এই দুটো প্রত্যয়ের সাথে একটি চমৎকার সংযোগ রয়েছে। সাহিত্যের বিকাশ ঘটে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন আবর্তে বিভিন্ন ঘটনাপ্রবাহে। এর বিকশিত হওয়ার কারণ ও ক্ষেত্র বড় বিচিত্র। সাহিত্যের বিভিন্ন সভা-সমাবেশ উৎসব সাহিত্যের বিকাশে বিশেষ ভূমিকা রাখে। বইমেলাও একটি উৎসব। সংগত কারণেই যে-কোনো বইমেলাই সাহিত্যের বিকাশে ভূমিকা রাখে, রাখবে এটি একেবারে জলের মতো সহজ কথা। সেক্ষেত্রে আমাদের মহান একুশের বইমেলার প্রসঙ্গটিতো প্রথমেই আসে।
বাংলাদেশে প্রতি বছর মহান একুশের বইমেলা আড়ম্বরে উদ্যাপিত হয়। এ মেলা আমাদের প্রাণের মেলা। কাদের প্রাণের মেলা? যারা বাঙালি, যারা বইপ্রেমী, যারা লেখক কবি সাহিত্যিক প্রকাশক, পাঠক, সাহিত্য সমালোচক ও সাহিত্যানুরাগী, তারা। আবার তাদের বন্ধু, শুভানুধ্যায়ী যারা, তাদেরও। কারণ এ মেলাকে কেন্দ্র করে বন্ধুদের সাথে দেখা হওয়া, আড্ডা দেওয়ার সুযোগও প্রতিবছর সৃষ্টি হয়।
কেন এ মেলা প্রাণের মেলা? প্রাণের সাথে প্রাণের যোগ করে দেয় যে মেলা, সে মেলাই প্রাণের মেলা। প্রাণের সাথে প্রাণের যোগ ঘটে কখন? যখন চিন্তায় মননে আদর্শে একের সাথে আরেকের মিল থাকে। সেই তো হয় প্রাণের বন্ধু, যার সাথে প্রাণের কথা বলা যায়, যার প্রকৃতির সাথে মিল আছে। বইমেলায় প্রাণের প্রিয় সে বন্ধুদের সাথে দেখা হয়। তাছাড়া যে বন্ধু কখনও ছেড়ে যায় না, যে বন্ধু আলোকিত করে, মনের ভেতরে নতুন জগৎ সৃষ্টি করে, আলোর বিচ্ছুরণ ঘটায়, নিজেকে আরো দশজন থেকে পৃথক করে, মূল্যবান করে, শ্রদ্ধার একজন করে গড়ে তোলে সেই চিরসখা বইয়ের দেখা মেলে যে মেলায় সে মেলাতো নিঃসন্দেহে প্রাণের মেলা।
এবার অতি সংক্ষেপে বলছি বইমেলা কীভাবে সাহিত্যের বিকাশে ভূমিকা রাখে? বইমেলায় কী হয়? বই বেঁচাকেনা হয়। শুধু তো বই-ই বেচাকেনা হয় না। বই মেলাকে কেন্দ্র করে আয়োজক প্রতিষ্ঠান নিয়মিত আলোচনাসভার আয়োজন করে। একেক জন একেক বিষয়ের ওপর বক্তব্য রাখেন। তাকে আলোচনার জন্য প্রস্তুতি নিতে হয়। প্রস্তুতি নিতে নিতে তিনি সৃজনশীল-মননশীল সাহিত্য সৃষ্টিতে প্রয়াসী হন। শ্রোতা সাহিত্যিকগণও সাহিত্যের প্রতি অনুরাগী হয়ে বা অনুপ্রেরণা পেয়ে নতুন সৃষ্টিতে মনোযোগী হন।
বইমেলা কেন্দ্রিক লেখক আড্ডা হয়। আড্ডা লেখকদের সমৃদ্ধ করে। কাজেই বলাই যায় মেলা সাহিত্য সৃষ্টিতে ভূমিকা রাখে ।
বইমেলায় গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন হয়। এতে বইয়ের ওপরে বিভিন্ন আলোচনা হয়। লেখার নানা খুঁটি নাটি দিক উঠে আসে। সমৃদ্ধ হয় অন্যরা, যা ভূমিকা রাখে আরো উন্নত সাহিত্য সৃষ্টিতে।
বইমেলাকে বিভিন্ন টিভি চ্যানেল প্রতিদিন তুলে ধরে। লেখক, পাঠক, শুভানুধ্যায়ীদের বক্তব্য মতামত বা প্রতিক্রিয়া এতে উঠে আসে। পর্দায় নিজের চেহারা দেখা কিংবা বই নিয়ে দুটো কথা বলার আনন্দ যে কাউকে পাঠে অনুরাগী করে বা পরবর্তী সাহিত্য সৃষ্টিতে আরও বেশি মনোযোগী হওয়ার অনুপ্রেরণা দেয়।
এভাবেই আমাদের মহান একুশের বইমেলা বাংলা সাহিত্যের বিকাশে সবিশেষ ভূমিকা রেখে চলছে।